প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজারে সফর ঘিরে চলছে শেষ প্রস্তুতি

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

মৌলভীবাজার সরকারি স্কুল মাঠ পরিদর্শনে এমপি এম নাসের রহমান মেডিকেল কলেজ ও শমসেরনগর বিমানবন্দর নিয়ে দিলেন আশার বার্তা।

আগামী ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মৌলভীবাজার সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। সফর উপলক্ষে রোববার (১৪ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (গভর্মেন্ট স্কুল) মাঠ পরিদর্শন করেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান।

পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জেলার দীর্ঘদিনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এম নাসের রহমান বলেন, “আমরা নির্বাচনের সময়ে বিভিন্ন কমিটমেন্ট করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে খুবই সচেতন। আমাদের জেলার জন্য আমরা তিনটি বিষয় দাবি করেছিলাম—মেডিকেল কলেজ, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু এবং মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর। এগুলো শুধু জনগণের দাবি নয়, আমারও দাবি।”

তিনি বলেন, “উন্নয়ন কার্যক্রম তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আমরা এখন বড় অবকাঠামোগত বিষয় নিয়ে কাজ করছি। আপনারা খেয়াল করবেন, ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন-চার মাসের মাথায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে মৌলভীবাজারে আসছেন। আমরা যে দাবিগুলো উত্থাপন করেছি, সেগুলো ১৭ জুন তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করবো।”

মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এমপি নাসের রহমান বলেন, “আপনারা হয়তো জেনে খুশি হবেন যে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পথে। আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমার এখানে মেডিকেল কলেজ করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকেই কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি। ইনশাআল্লাহ দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সদর হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।”

শমসেরনগর বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি সংসদে ৭১ বিধিতে শমসেরনগর বিমানবন্দর চালুর দাবি উত্থাপন করেছিলাম। তখন মাননীয় বিমানমন্ত্রী বলেছিলেন সময় লাগবে। আমি উত্তরে বলেছিলাম—সময় নেই। আগামী ১৯ জুন বিমানমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব মৌলভীবাজারে আসছেন। শ্রীমঙ্গলে একটি হারমনি ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার পর ২০ জুন তাঁরা শমসেরনগর বিমানবন্দর পরিদর্শন করবেন।”

তিনি আরও বলেন, “এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয় নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার কারণেই এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। বিমানমন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই আসছেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলার মানুষের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল।”

প্রধানমন্ত্রীর সফরের তাৎপর্য তুলে ধরে নাসের রহমান বলেন, “২০টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন হবে। কিন্তু উদ্বোধনের মূল অনুষ্ঠান হবে মৌলভীবাজার থেকে এবং এখান থেকেই বাকি ১৯টি জেলায় লাইভ সম্প্রচার করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারকে ভালোবাসেন বলেই এ জেলাকে বেছে নিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “শমসেরনগর বিমানবন্দর চালুর বিষয়টি আমি প্রথম সংসদে উত্থাপন করেছিলাম। আশা করছি প্রথম ধাপেই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এ বিমানবন্দর চালু করতে তুলনামূলক কম সময় ও কম ব্যয় প্রয়োজন হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সর্বাত্মক প্রস্তুতির কথা জানিয়ে এমপি নাসের রহমান বলেন, “আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি যখন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ প্রসঙ্গে বলেছিলেন—‘আমরা যে উন্নয়ন করছি, এটাই আমার প্ল্যান’, তখনই তাঁর উন্নয়ন দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে। তাঁর আগমনকে ঘিরে দিন-রাত কর্মযজ্ঞ চলছে। দেশের ২০টি জেলার মধ্যে একমাত্র মৌলভীবাজারের দুটি উপজেলায় তিনি সরাসরি এসে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন। এটি জেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়।”

এর আগে তিনি সভামঞ্চ ও অনুষ্ঠানস্থলের প্রস্তুতির খুঁটিনাটি ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মুকিত ও বকশি মিছবাউর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. বদরুল আলম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল ইসলাম শেলুন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আব্বাস আলী মাস্টার, মৌলভীবাজার পৌর বিএনপির সভাপতি অলিউর রহমান, জেলা যুবদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এর আগে বিকেল চারটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফর উপলক্ষে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত নিরাপত্তা ও সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন এমপি এম নাসের রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন। এদিন মৌলভীবাজার থেকেই দেশের ২০টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন এবং জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন দাবিগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ঘিরে এখন মৌলভীবাজারজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

এ বিভাগের অন্যান্য