পানির দামেও ক্রেতা সংকট, চামড়া পড়ে আছে রাস্তা-নদীর পাশে
কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। নামমাত্র দামে চামড়া কেনার অভিযোগ করেছেন বিক্রেতারা।
রাজধানীর পোস্তায় বড় গরুর চামড়া বিক্রি করতে আসা কয়েকজন গণমাধ্যমকে জানান, একটি ভালো মানের বড় চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা বলা হচ্ছে। কোথাও সামান্য কাটা বা ছিদ্র থাকলে দাম নেমে যাচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়। এক ধরনের সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরায় কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবীর জানান, চামড়া একটি জাতীয় সম্পদ। এভাবে চামড়া অবিক্রীত থেকে নষ্ট হওয়া বা মাটিতে পুঁতে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। চামড়া সংরক্ষণের জন্য স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত লবণের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আড়তদারদের সমন্বয় করা জরুরি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কোরবানির চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে এবার ব্যাপক ধস নেমেছে। কোরবানির পর দুপুর থেকেই উপজেলার সদরসহ বিভিন্ন গ্রামে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ শুরু করলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল খুবই কম। কোথাও কোথাও চামড়া কিনতে কোনো ব্যবসায়ীই যাননি। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে চামড়া উপজেলা সদরে নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে কেউ কেউ চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা শত শত গরুর চামড়া সংগ্রহ করছিলেন। সবারই আশা ছিল, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম উঠবে। কিন্তু সেই আশা শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়। কেউ চামড়া বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে চলে যান। কেউ নামমাত্র দামে ছেড়ে দেন। কেউ আবার জোর করে আড়তে চামড়া ঢুকিয়ে দিয়ে ফিরে আসেন। চট্টগ্রামের চামড়ার বাজারে এবারও যেন ফিরে এলো পুরনো সংকট।
