৩ ব্যক্তি ও ৯ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ

 

ইরানের তেল চীনে পরিবহনের কাজে সহায়তার অভিযোগে তিন ব্যক্তি ও নয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দেয়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চারটি হংকংভিত্তিক, চারটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এবং একটি ওমানভিত্তিক।

আজ মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদন বলা হয়, মার্কিন প্রশাসনের দাবি এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর জন্য সামনের সারির ভুয়া কোম্পানি হিসেবে কাজ করে ইরানি তেল চীনে বিক্রি ও পরিবহনে সহায়তা করেছে।

এর আগে গত শুক্রবার ইরানের জন্য অস্ত্র এবং ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপকরণ কেনাবেচায় সহায়তার অভিযোগে কয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরের ঠিক আগে নতুন এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। বৈঠকে ট্রাম্প ইরান ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়ে চীনের সহযোগিতা চাইতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জানায়, আইআরজিসি তাদের বরাদ্দকৃত ইরানি তেল বিক্রি ও পরিবহনের জন্য বিভিন্ন শেল কোম্পানি ব্যবহার করে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন ও পরিবহন কার্যক্রম পরিচালিত হতো।

প্রতিবেদনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের বরাত দিয়ে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সরকার ও সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র কর্মসূচি, পারমাণবিক প্রকল্প এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখবে।

তার ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানি শাসনব্যবস্থাকে সেসব আর্থিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে থাকবে, যেগুলো ব্যবহার করে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে।’

ওই প্রতিবেদনে আরও জানান হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আইআরজিসি এবং এর সহযোগী নেটওয়ার্কগুলোর আর্থিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। ইতোমধ্যে আইআরজিসিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ওয়াশিংটন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে হংকংভিত্তিক হংকং ব্লু ওশান লিমিটেড ও হংকং সানমু লিমিটেড। এ কোম্পানিগুলোকে ইরানি তেল বিক্রি ও পরিবহন আড়াল করতে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন।

এছাড়া দুবাইভিত্তিক ওশান অ্যালিয়ানজ শিপিং এলএলসি এবং শারজাহভিত্তিক এটিক এনার্জি এফজেডই-এর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকার ব্যবহার করে ইরানি তেল পরিবহনে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওমানভিত্তিক জিউস লজিস্টিকস গ্রুপ-এর বিরুদ্ধে ইরানি তেল পরিবহনের জন্য জাহাজের ব্যবস্থা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া হংকংয়ের জিয়ান্ডি এইচকে লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে আইআরজিসির সঙ্গে কোটি কোটি ডলারের ইরানি তেল কেনার চুক্তি করার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে ম্যাক্স অনার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কোং লিমিটেড ২০২৫ সালে আইআরজিসির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল কিনেছে বলে জানিয়েছে ট্রেজারি বিভাগ।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরও রয়েছে দুবাইভিত্তিক ব্লাঙ্কা গুডস হোলসেলার এলএলসি এবং ইউনিভার্সাল ফরচুন ট্রেডিং এলএলসি। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, ইউনিভার্সাল ফরচুন ট্রেডিং এলএলসিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি এনআইওসি-র শেল হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের তেল বাণিজ্য থেকে অর্জিত অর্থের প্রবাহ কমিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যাতে তেহরানের সামরিক ও আঞ্চলিক কার্যক্রমে অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য