ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন বিচার শুরু
খেলাধুলা ডেস্ক ঃ
আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার। এর আগে এক বিচারকের কেলেঙ্কারির কারণে প্রথম বিচার কার্যক্রম ভেঙে পড়েছিল, প্রায় এক বছর পর আবার এই বিচার শুরু হলো।
বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত ম্যারাডোনা ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ৬০ বছর বয়সে মারা যান। তিনি মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের পর বুয়েনস আইরেসের একটি বেসরকারি বাসভবনে সেরে ওঠার সময় ছিলেন।
হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এবং ফুসফুসে অতিরিক্ত পানি জমে (পালমোনারি ইডিমা) তার মৃত্যু হয়। অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর তার মৃত্যু ঘটে।
তার চিকিৎসায় যুক্ত সাত সদস্যের একটি দল—ডাক্তার, মনোবিজ্ঞানী ও নার্স—তার সেবা ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। প্রসিকিউশন তাদের কর্মকাণ্ডকে গুরুতর অবহেলা বলে উল্লেখ করেছে।
প্রায় আড়াই মাস চলার পর, সাক্ষীদের আবেগঘন জবানবন্দির মধ্যেই বিচার কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে বিচার বাতিল ঘোষণা করা হয়, কারণ জানা যায় বিচারক জুলিয়েতা মাকিনতাচ এই মামলাকে ঘিরে একটি তথ্যচিত্রে যুক্ত ছিলেন, যা নৈতিকতার নিয়ম ভঙ্গের সম্ভাবনা তৈরি করে।
পরবর্তীতে ওই বিচারককে পদচ্যুত করা হয়।
নতুন এই বিচারে প্রায় ১২০ জন সাক্ষ্য দেবেন। এতে আবারও নির্ধারণ করা হবে ম্যারাডোনার মৃত্যুর জন্য তার চিকিৎসা দলের কোনো ফৌজদারি দায় আছে কি না।
মৃত্যুর সময় চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত সাতজন স্বাস্থ্যকর্মী—ডাক্তার, মনোবিজ্ঞানী ও নার্সদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তারা জেনে-বুঝে এমন চিকিৎসা দিয়েছেন, যা মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, অর্থাৎ সম্ভাব্য হত্যার অভিযোগে মামলা চলছে।
দোষী প্রমাণিত হলে তাদের আট থেকে পঁচিশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করছেন, ম্যারাডোনার মৃত্যু স্বাভাবিক কারণেই হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন কোকেন ও মদ আসক্তির সঙ্গে লড়াই করছিলেন।
একজন আইনজীবী বলেন, তাকে হত্যার কোনো পরিকল্পনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি; এ ধরনের দাবি পরিবার ও অভিযুক্তদের জন্য কষ্টদায়ক।
২০২০ সালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কোভিড মহামারির মধ্যেও আর্জেন্টিনার লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে শোক প্রকাশ করেছিলেন।
এই নতুন বিচার কার্যক্রম জুলাই পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
