নির্বাচন, কিছু সংস্কার, বিচার —৩ দায়িত্ব পালনে কাজ করছে সরকার : সালেহউদ্দিন

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব তিনটি- নির্বাচন, কিছু সংস্কার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার করতে পারে, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের মতো খাতে নয়। যেমন- ব্যাংকিং, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং পুলিশ প্রশাসনের মতো খাতে সংস্কারের রূপরেখা প্রদান করতে পারে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তারা জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।

এর আগে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শাসনামলে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আমরা চেষ্টা করছি যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। সব রাজনৈতিক দলই চায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। যদি সবাই গণতান্ত্রিক আচরণ করে তাহলে এটা সম্ভব।
এমনকি দলের ভেতরেও গণতন্ত্রের চর্চা প্রয়োজন, বলেন তিনি। 

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনীতিবিদদের মধ্যে ঐকমত্য থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশাবাদী, নির্বাচনের সময় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক থাকবে।

শিগগিরই নির্বাচন নিয়ে রোডম্যাপ ঘোষণার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

বিভিন্ন দাবিতে নানা মহলের অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি প্রায়ই দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটায়। আগের সরকারের সময় এগুলো করতে পারেনি। কারণ তখন তা দমন করা হত। কিন্তু এখন আমাদের জন্য ব্যাপারটা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এনবিআরকে পৃথক করার প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার পিছু হটবে না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজস্ব বোর্ডের কর্মীদের উত্থাপিত যৌক্তিক সমস্যাগুলো তারা সমাধান করবেন।

আসন্ন বাজেটে সম্ভাব্য মহার্ঘ ভাতা সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবে। যদি এটি ঘোষণা করা হয়, তাহলে সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের পূর্ণ প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা কতটা দিতে পারি, তা আমরা বিবেচনা করব।

এনবিআর সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এনবিআরকে দুটি সত্তায় বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল। কারণ রাজস্ব বোর্ডকে পৃথক করার কোনও বিকল্প ছিল না। একটি সত্তা একইসঙ্গে নীতি (রাজস্ব) ও এর বাস্তবায়ন চালিয়ে যেতে পারে না। দেশের অন্য কোথাও এর অস্তিত্ব নেই।

এনবিআর পৃথকীকরণের ফলে উদ্ভূত জটিলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, রাজস্ব বোর্ডকে পৃথক করার কোনো বিকল্প নেই। আমরা এনবিআরকে পৃথক করেছি এবং এভাবে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ গঠন করেছি, যা মূলত নীতিগতভাবে প্রয়োজনীয় ছিল।

এ বিভাগের অন্যান্য