বঙ্গভবনের বিলাসিতা ছেড়ে নিজের রাস্তা দেখুন
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উদ্দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘এখনো সময় আছে, বঙ্গভবনের বিলাসিতা ছেড়ে আপনি আপনার নিজের রাস্তা দেখুন। ফ্যাসিস্ট খুনি শেখ হাসিনার সংবিধান আমরা মানি না; কিন্তু ওই সংবিধানের আপনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। যদি আপনি মনে করে থাকেন, ফ্যাসিস্ট খুনি শেখ হাসিনাকে আপনি পুনর্বাসিত করবেন, তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। ফ্যাসিস্ট খুনি শেখ হাসিনার পুনর্বাসন এই বাংলায় আর কোনোদিন হবে না।
সমাবেশে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর কাছে হাসনাত প্রশ্ন রাখেন, ‘যদি ছাত্রদের আজকে আড়াই মাস পরে রাজু ভাস্কর্যে এসে দাঁড়াতে হয় ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ও গ্রেপ্তার করানোর জন্য তাহলে আপনাদের কাজটা কী?’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতি পদে পদে আজ ছাত্রলীগ দ্বারা শিক্ষার্থীরা নিগ্রহ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
’২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্রলীগ প্রাসঙ্গিক কি না, সেটার ফয়সালা ১৫ জুলাই হয়ে গেছে। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কবরস্থ হয়ে গেছে ৫ আগস্ট।
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা যদি মনে করে থাকেন, আপনাদের পোস্ট অপরিহার্য, তাহলে ভুল ভাবছেন। শেখ হাসিনাও নিজেকে অপরিহার্য মনে করেছিল।
এ সময় কিছু গণমাধ্যমেরও সমালোচনা করেন হাসনাত। তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছর ধরে যেসব কলম শেখ হাসিনার পক্ষে লিখেছে, সেই কলমগুলো আবার চালু হয়েছে। যেসব মেরুদণ্ড শেখ হাসিনার কাছে দাসখতের বিনিময়ে বিক্রি হয়েছে, সেসব মেরুদণ্ড আবার সোজা হওয়ার চেষ্টা করছে। যেসব মিডিয়া ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে শক্তিশালী করেছে, সেসব মিডিয়াও আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ৫ আগস্ট ওই ধরনের মিডিয়া কবরস্থ হয়ে গেছে। তাদের পুনর্বাসন বাংলাদেশে কখনো সম্ভব নয়।’
বিক্ষোভ সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সানজিদা আফিয়া অদিতি, হাসিব আল ইসলাম, আব্দুল হান্নান মাসুদ, আব্দুল কাদের, আবু বাকের মজুমদার, রিফাত রশিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ বক্তব্য দেন।
