ইসরায়েল ‘পূর্বসতর্কতা ছাড়াই’ স্কুলে হামলা করেছে : ইউএনআরডাব্লিউএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ

 

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইসরায়েল গাজার একটি স্কুলে ‘পূর্বসতর্কতা ছাড়াই’ বোমা হামলা চালিয়েছে। স্কুলটি হাজার হাজার বাস্তুচ্যুতের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়।

সামরিক বাহিনী বলেছে, নুসিরাত এলাকায় ‘ইউএনআরডাব্লিউএর একটি স্কুলের অভ্যন্তরে থাকা হামাসের কম্পাউন্ডে নির্ভুল হামলায়’ বেশ কয়েকজন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। অন্যদিকে গাজার আল-আকসা শহীদ হাসপাতাল জানিয়েছে, হামলায় কমপক্ষে ৩৭ জন নিহত হয়েছে।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লাজারিনি লিখেছেন, ইউএনআরডাব্লিউএর আরেকটি আশ্রয়কেন্দ্রে হামলা হয়েছে, যেটি আগে স্কুল ছিল। স্কুলটিসহ তার সংস্থার সব স্থাপনার স্থানাঙ্ক ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও চলমান সংঘাতের অন্যান্য পক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি আরো বলেছেন, জাতিসংঘের স্থাপনায় হামলা করা বা এগুলো সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা নতুন নিয়ম হয়ে উঠতে পারে না। হামলার সময় স্কুলটিতে ছয় হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল।

 

ইসরায়েলি অধিকার গোষ্ঠী বি’তেসেলেম এই হামলাকে ‘সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, যদি ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী হামাস স্কুলটিকে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার করেও থাকে, তবু এই পদক্ষেপ বেআইনি। এই দাবি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে স্কুলে আশ্রয় নেওয়া বেসামরিক লোকদের ব্যাপক ক্ষতির ন্যায্যতা দিতে পারে না। গোষ্ঠীটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুদ্ধ বন্ধ করতে সাহায্য করার আহ্বানও জানিয়েছে।

 

এদিকে ইইউ পররাষ্ট্রনীতির প্রধান জোসেপ বোরেল এ হামলার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘গাজা থেকে বারবার আসা প্রতিবেদনগুলো দেখাচ্ছে, সহিংসতা ও দুর্ভোগ এখনো লাখ লাখ নিরীহ বেসামরিক মানুষের জন্য একমাত্র বাস্তবতা। এই ভয়ংকর খবরটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা উচিত।’

সূত্র : এএফপি

এ বিভাগের অন্যান্য