ফ্রান্স নিয়ন্ত্রিত নিউ কালেডোনিয়ায় দাঙ্গার পর কারফিউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ

 

স্থানীয় নির্বাচনে অভিবাসীদের ভোটাধিকার দিতে আনা নির্বাচনী সংস্কার পরিকল্পনার প্রতিবাদে ফ্রান্স নিয়ন্ত্রিত ফরাসি অঞ্চল নিউ কালেডোনিয়ার নোমিয়ায় দাঙ্গার পর কার্যত অচলাবস্থা বিরাজ করছে। শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি। জারি করা হয়েছে কারফিউ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সফর স্থগিত করেছেন। 

নিউ কালেডোনিয়ার রাজধানী নোমিয়ায় সোমবার রাতভর দাঙ্গার পর মঙ্গলবার সকালে সবাইকে ‘ধৈর্য ধরা ও শান্ত থাকার’ আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় সরকার। এদিন এক বিবৃতিতে সরকারের পক্ষে আরো জানানো হয়েছে, ‘দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা একটি অঞ্চল অসন্তোষ, হতাশা এবং ক্রোধের কারণে ধ্বংস হতে পারে না এবং এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হতে দেওয়া যায় না।’

ইন্দো-প্যাসিফিক সংলগ্ন এবং অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব দিকের এই ফরাসি অঞ্চলে দাঙ্গার পর ১২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়েছে।

নিরাপত্তার জন্য শহরজুড়ে নামানো হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নোমিয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সব বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। 

নিউ কালেডোনিয়া হাইকমিশন জনসমাগম এবং অ্যালকোহল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কমিশন প্রধান লুই লে ফ্রাঙ্ক জানিয়েছেন, দাঙ্গার ঘটনায় ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আহত হয়েছেন অনেকেই। কিন্তু সোমবার রাতে দাঙ্গায় কোনো সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। 

২০০ তরুণ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়ে এই দাঙ্গা শুরু করেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, তারাই সহিংসতা করেছেন এবং পুলিশই ছিল তাদের লক্ষ্যবস্তু। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হবে বলে বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করতে বাধ্য হয় বলেও দাবি তার।

 

যে কারণে সহিংসতা

কর্তৃপক্ষের নির্বাচনী সংস্কার প্রস্তাবের জের ধরে নোমিয়ায় অস্থিরতা ও সহিংসতার শুরু। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দ্বীপটিতে বসবাসরত অভিবাসীদেরও ভোটাধিকার ক্ষমতা দিতে চায় ফ্রান্স। তাই নিউ কালেডোনিয়ার সংবিধানে পরিবর্তন নিয়ে ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পার্লামেন্টে আলোচনার আগের দিন অর্থাৎ রবিবার থেকে আন্দোলন তীব্র হতে থাকে। কারণ অভিবাসীদের ভোটাধিকার দেওয়া হলে কানাক নামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মর্যাদা কমে যাবে বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।

দ্বীপের দুই লাখ ৭০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে ৪০ হাজার ফরাসি নাগরিক। তাদের স্থানীয় নির্বাচনে ভোটাধিকারের ক্ষমতা নেই। এমন পরিস্থিতিকে ‘অযৌক্তিক’ মনে করে ফ্রান্স। সোমবার ফরাসি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানা বলেন, ‘নিউ কালেডোনিয়ার একমাত্র স্থানীয় নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা বাতিল করা শুধু একটি রাজনৈতিক ইচ্ছা নয়, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন তাদের জন্য এটি একটি নৈতিক অবস্থান।’ উল্লেখ্য, নিউ কালেডোনিয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে ১৮ ঊর্ধ্ব সবার ফ্রান্সের জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। সম্প্রতি গণভোটে হেরেছে আন্দোলনকারীরা। ২০২১ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কানাক সম্প্রদায়ের প্রথম নেতা পেয়েছে নিউ কালেডোনিয়া। তিনি দ্বীপটির স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।

এ বিভাগের অন্যান্য