দিল্লির কথায় বাংলাদেশে নির্বাচন হবে না : নুর

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

সরকারকে আর বিভাজনের ট্রাম্প কার্ড খেলতে দেওয়া যাবে না উল্লেখ করে গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, সরকার এখন সংক্রামকে পরিণত হয়েছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সংক্রামক প্রতিরোধ করতে হবে। কে বাম, কে ডান, কে জামায়াত-হেফাজত-চরমোনাই তা এখন দেখার বিষয় না। আমাদের সবার লক্ষ্য এক, এই সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

 

নিজেরা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে সরকারকে আর বিভাজনের ট্রাম্প কার্ড খেলতে দেওয়া যাবে না। 

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিজয়নগর পানির ট্যাংকির মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তফসিল বাতিল, সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে গণঅধিকার পরিষদ। মিছিলটি পুরানা পল্টন আল-রাজী কমপ্লেক্সের সামনে থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়, নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে বিজয়নগর পানির ট্যাংকির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

 

নুর বলেন, এ দেশের নির্বাচন কিভাবে হবে সেটা এ দেশের জনগণ ঠিক করবে। দিল্লির কথায় বাংলাদেশে নির্বাচন হবে না। বিডিআর বিদ্রোহের নামে আর্মি অফিসার হত্যা, শাপলা চত্বরে আলেম-উলামাদের হত্যা, ১৪ ও ১৮-এর নির্বাচন। দিল্লির কথায় এ দেশে আর কোনো কিছু হবে না।

 

তিনি আরো বলেন, যারা পাতানো নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তাদের প্রতি আহ্বান- আপনারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে আন্দোলনে যোগ দিন, জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে। শাহজাহান ওমরকে দেখেন। গতকাল আইনজীবীদের কেউ তাকে থুতু মেরেছে, কেউ জুতা মেরেছে। বেঈমান, মোনাফেকদের দুনিয়াতেও অপমান-অপদস্ত হতে হবে, আখিরাতেও হতে হয়।

বিচারকদের সতর্ক করে নুর বলেন, চট্টগ্রামে আদালতে অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জুতা নিক্ষেপ শুরু হয়েছে।

সাগর-রুনির মামলার প্রতিবেদন ১০০ বার পেছায়, রিজার্ভ চুরির প্রতিবেদন পেছায় আর রাতে আদালত বসিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সাজা দেওয়া হচ্ছে। এভাবে অবিচার চলতে থাকলে জনগণ রাস্তা-ঘাটে, বাসা-বাড়িতেও জুতা মারতে দ্বিধাবোধ করবে না। এই জুতা অবিচারের বিরুদ্ধে। 

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আবারও একটি একতরফা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বারবার অনুরোধ করেছি, আপনি দেশকে সংকটের দিকে নিয়ে যাবেন না। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। তার মানে পরিকল্পিতভাবে দেশকে শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়া করার চক্রান্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিবকে জামিন দেওয়া হয়নি। বিএনপিসহ সব বিরোধী দলের যেসব শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করেছে, তাদের কারাগারে রেখেই সরকার নির্বাচন করতে মরিয়া। কিন্তু জনগণ সেটি মেনে নেবে না। ইতিমধ্যে জনগণ গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। গতকাল হাইকোর্টে আইনজীবীরা শাহজাহান ওমরকে দৌড়ানি দিয়েছে। যারা জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করবে, তাদের পরিণতি এমনই হবে।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ, মিছিলে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য শাকিল উজ্জামান, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, ফাতিমা তাসনিম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক মোবারক হোসেন, যুবপরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি সাব্বির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, নেওয়াজ খান বাপ্পি, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা সম্পদ, গণঅধিকার পরিষদ মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমসহ নেতাকর্মীরা।

এ বিভাগের অন্যান্য