পাঠক ভাবনা পাঠকদের বিজয় দিবস উদযাপন

আজ মহান বিজয় দিবস, বিজয়ের ৪৮তম বার্ষিকী৷ এই দিনটি সিলেটের সময়ে পাঠকরা, কীভাবে উদযাপন করছেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল আমাদের ফেসবুক পাতায়৷

    
Bangladesh 42. Jahrestag Unabhängigkeitsfeier

‘দিনটি কীভাবে উদযাপন করলেন?’ – সেকথা জানিয়েছেন অনেকে৷ দেশ নিয়ে গর্ব, দেশ সম্পর্কে তাঁদের আবেগ, ভাবনা, হতাশা আর দুঃখের কথাও লিখেছেন কেউ কেউ৷ যেমন মহান বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে পাঠক মাসুদ রহমানের মনে নানা প্রশ্ন৷ দেশ মানে ‘মা’ আর মায়ের প্রতি ভালোবাসা আর আবেগের কথা তিনি ডয়চে ভেলের ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন ঠিক এভাবে:

‘‘দেশ মানে কী? সে কি কথা বলতে পারে? খেতে পারে? সে কি বুদ্ধি সম্পন্ন? তবে সব ধিক্কার দেশের জন্য কেন? কই, কোনো কৃষক তো বলে না দেশ আমাকে কী দিয়েছে? কারণ কৃষক জানে দেশ মানে মাটি আর এই মাটিতে সে সোনা ফলায়৷ সে বোঝে এই মাটির ওপর সে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে৷ দেশ যদি হতো যুদ্ধময়, তাহলে কৃষক সোনা ফলাতে পারতো না৷ দেশই আমার ভিত্তি, দেশকে যে যেভাবেই ধিক্কার দিক না কেন, আমার কাছে দেশ মানে ‘মা’৷ মায়ের দাবি পূরণ হওয়ার নয়, মাকে কেমন করে জিজ্ঞেস করবো যে মা, তুমি আমাকে কী দিয়েছো?”

পাঠক কামরুল ইসলাম দেশ নিয়ে হতাশ৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘আজ বিজয় দিবস, কিন্তু ঘরের-বাইরে যাওয়ার স্বাধীনতা পাচ্ছি না, তাই রুমে বসে টিভি দেখছি৷”

খাদেমুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী দু’জনই দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিয়ে গর্বিত৷ তাঁরা জানিয়েছেন, ‘‘শহিদদের জন্য কোরআন শরীফ পড়ে দোয়া করেছি৷”

ব্যবসায়ী সাগর আহমেদ লিখেছেন, ‘‘আমি আমার দোকানে সকালবেলা পতাকা উত্তোলন করেছি৷ তারপর দেশের গান বাজিয়েছি আর এখন ফেসবুকে দেশের কবিতাসহ বন্ধুদের এবং ডয়চে ভেলের বাংলা সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি৷”

মো. হাফিজউদ্দিনও তাঁর দোকানে বসেই বিজয় দিবস পালন করছেন৷

দেশ নিয়ে গর্বিত কমিক ট্রাভেলার লিখেছেন, ‘‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়াতে তেজগাঁও পুরাতন বিমান বন্দরস্থ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পেরে অনন্দিত৷ একজন বাংলাদেশি হয়ে আমি গর্বিত৷”

ফেসবুকে মামুন লিখেছেন, ‘‘জাতীয় পতাকা নিয়ে ব়্যালি করছি, বেশ বড় ব়্যালি৷”

অন্যদিকে ওমর বিন মোস্তফা, সোনার তরী এবং আরো কেউ কেউ জানিয়েছেন যে, তাঁরা আজকের দিনটি ঘুমিয়েই কাটাচ্ছেন৷ আর মো. একলাস ঘরে বসে ফেসবুক দেখছেন৷

সাদিক হাসান ও নিলয় নাকি আজকে, মানে বাংলাদেশের এই বিজয়ের দিনে হিন্দি, ইংরেজি ছবি দেখছেন, গান শুনছেন৷

নূর নবী হাসান নূর লিখেছেন, ‘‘ঘরে বসে বসে ভাবতেছি, আমরা যে ‘স্বাধীনতা’-কে এত কষ্ট করে অর্জন করেছি, সেই স্বাধীনতার আজ এ কী বেহাল দশা!! ”

একটি দেশাত্মবোধক গানের মধ্য দিয়ে পাঠক নূর নবী তাঁর মনের ভাব প্রকাশ করেছেন৷ লিখেছেন:

‘‘কী দেখার কথা – কী দেখছি, কী শোনার কথা – কী শুনছি, কী ভাবার কথা – কী ভাবছি, কী বলার কথা –কী বলছি৷ ৪৩ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাকে খুঁজছি৷ স্বাধীনতা কি বৈশাখী মেলায় পান্তা ইলিশ খাওয়া? স্বাধীনতা কি বটমূলে বসে বৈশাখী গান গাওয়া? স্বাধীনতা কি বুদ্ধিজীবীর বক্তৃতা-সেমিনার? স্বাধীনতা কি শহিদ বেদীতে পুষ্পের সমাহার? স্বাধীনতা কি ঢাকা শহরের আকাশচুম্বি বাড়ি? স্বাধীনতা কি ফুটপাথে শোওয়া গৃহহীন নর-নারী? স্বাধীনতা কি হোটেলে হোটেলে গ্রান্ড ফ্যাশান শো? স্বাধীনতা কি দুঃখী নারীর জরাজীর্ণ বস্ত্র? স্বাধীনতা কি গজিয়ে ওঠা অভিজাত পান্থশালা? স্বাধীনতা কি অন্নের খোঁজে কিশোরী প্রমোদবালা? স্বাধীনতা কি নিরীহ লোকের অকারণে প্রাণদণ্ড? স্বাধীনতা কি পানির ট্যাংকে গলিত লাশের গন্ধ? স্বাধীনতা কি হরতাল ডেকে জীবন করা স্তব্ধ? স্বাধীনতা কি ক্ষমতা হরণে চলে বন্দুকযুদ্ধ? স্বাধীনতা কি সন্ত্রাসীর হাতে মারণাস্ত্রের গর্জন? স্বাধীনতা কি অর্থের লোভে বিবেক বিসর্জন? আজ নেই বর্গি, নেই ইংরেজ, নেই পাকিস্তানি হানাদার৷ আজ তবু কেন আমার মনে শূন্যতা আর হাহাকার? আজ তবু কি লাখো শহিদেও রক্ত যাবে বৃথা? আজ তবু কি ভুলতে বসেছি স্বাধীনতার ইতিকথা?”

এছাড়া পাঠক মাইশা মুনিয়া দিনটি খুব উপভোগ করছেন বলে লিখেছেন৷

আর মো.মনিরুল ইসলামের মন্তব্য: ‘‘বিজয় দিবস মানেই হলো চেতনার আনন্দ৷ তাই আজ সেই আনন্দে দেশকে ভালোবাসার আনন্দ আবার ফিরে পেলাম৷”

এ বিভাগের অন্যান্য