গ্রামের বাড়ির পথে কাঁকন বিবির মরদেহ

নিজ গ্রামের বাড়ি দোয়ারাবাজারের উপজেলার লক্ষ্মীপুরের পথে রয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবির মরদেহ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কাঁকন বিবির মরদেহ নিয়ে দোয়ারাবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় লাশবাহী এম্বুল্যান্স।

সকাল ১১ টার দিকে এম্বুল্যান্সটি ছাতক বাজার অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছেন- দোয়ারাবাজার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সফর আলী।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯ টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে মাহবুবুল হক কাঁকন বিবির মরদেহ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

উল্লেখ্য, বুধবার (২১ মার্চ) রাত ১১টা ৫মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি।

গত ১৯ মার্চ (সোমবার) নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘদিন ধরে কাঁকন বিবি শ্বাসকষ্ট সহ হৃদরোগে রোগে ভুগছিলেন। সোমবার রাতে তাঁর অবস্থা বেশি খারাপ হলে তাঁকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়।

সেখানে তিনি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডা. নাজমুল ইসলামের অধীনে ভর্তি হলেও আইসিইউতে ডা. সব্যসাচী রায়ের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

কাঁকন বিবি ১৯৭১ সালে তিন দিনের কন্যা সন্তান সখিনাকে রেখে যুদ্ধে চলে যান। মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি রাজাকারদের হাতে শ্লীলতাহানির শিকার হন। তিনি কেবল মুক্তিবাহিনীর গুপ্তচর হিসেবেই কাজ করেননি, সেই সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধেও অংশ নেন।

 

মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি। বুধবার (২১ মার্চ) রাত ১১টা ৫মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে মাহবুবুল হক কাঁকন বিবির মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সকালে তাঁর পরিবারের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ১৯ মার্চ (সোমবার) নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘদিন ধরে কাঁকন বিবি শ্বাসকষ্ট সহ হৃদরোগে রোগে ভুগছিলেন। সোমবার রাতে তাঁর অবস্থা বেশি খারাপ হলে তাঁকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়।

সেখানে তিনি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডা. নাজমুল ইসলামের অধীনে ভর্তি হলেও আইসিইউতে ডা. সব্যসাচী রায়ের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

কাঁকন বিবি ১৯৭১ সালে তিন দিনের কন্যা সন্তান সখিনাকে রেখে যুদ্ধে চলে যান। মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি রাজাকারদের হাতে শ্লীলতাহানির শিকার হন। তিনি কেবল মুক্তিবাহিনীর গুপ্তচর হিসেবেই কাজ করেননি, সেই সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধেও অংশ নেন।

১৯৭১ এর জুনে পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে ধরা পড়েন কাঁকন বিবি। তাদের বাঙ্কারে দিনের পর দিন অমানুষিকভাবে নির্যাতন সহ্য করতে হয় তাঁকে। এরপর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তখনই কাঁকন বিবি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন। জুলাই মাসে তাঁর সঙ্গে দেখা হয় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের।

মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী তাঁর সঙ্গে সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর শওকতের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেন। তাঁর ওপর দায়িত্ব পড়ে গুপ্তচর হিসেবে বিভিন্ন তথ্য জোগাড়ের। কাঁকন বিবি শুরু করেন পাকিস্তানিদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্যসংগ্রহ করার। তার সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ চালিয়ে সফল হন।

গুপ্তচরের কাজ করতে গিয়েই দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজারে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে পুনরায় ধরা পড়েন তিনি। এবার একনাগাড়ে ৭ দিন পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারেরা তাকে বিবস্ত্র করে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। লোহার রড গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেয়া হয় ছ্যাঁকা।

তখন কাঁকন বিবিকে মৃত ভেবে অজ্ঞান অবস্থায় পাকবাহিনীরা ফেলে রেখে চলে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে বালাট সাব-সেক্টরে নিয়ে যাওয়া হয়। সুস্থ হয়ে তিনি পুনরায় ফিরে যান বাংলাবাজারে। অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষণ নেন।

মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলীর তাঁকে প্রশিক্ষণ দেন। এর পরবর্তীকালে তিনি সম্মুখযুদ্ধ আর গুপ্তচর উভয় কাজই শুরু করেন। কাঁকন বিবি প্রায় ২০টি যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

এ বিভাগের অন্যান্য