হজের খুতবায় আল্লাহভীতি অর্জনের আহ্বান
নামাজ, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতে নিমগ্ন থাকার মধ্য দিয়ে আরাফাতের ময়দানে সারাদিন কাটিয়েছেন লাখ লাখ হাজি। আজ ২০ লাক্ষাধিক হাজির লব্বাইক ধ্বনিতে মুখর ছিল এ ময়দান। করোনাকালের দীর্ঘ তিন বছরের বিধি-নিষেধের পর ১৬০টি দেশ থেকে ১৬ লাখের বেশি মুসলিম এবারের হজে অংশ নেন। তাদের সবার মুখে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।
এবার বাংলাসহ বিশ্বের ২০টি ভাষায় এ খুতবার অনুবাদ সম্প্রচারিত হয়েছে। বাংলা অনুবাদ কার্যক্রমে ছিলেন মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ড. খলীলুর রহমান, আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব।
খুতবায় শায়খ ইউসুফ সমবেত মুসলিমদের তাকওয়া তথা আল্লাহভীতি অর্জনের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্য অর্জনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
দশম হিজরি মোতাবেক ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে বিদায় হজের আরাফাতের ময়দানে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা করে কোরআনের সুরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াত অবতীর্ণ হয়। তাতে বলা হয়েছে, ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বিন পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলাম তোমাদের দ্বিন মনোনীত করলাম।’ হজের বিধানগুলোর মধ্যে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিদায়ে হজের ভাষণে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে নামাজ আদায় করেছে এবং আরাফায় অবস্থান করেছে—দিনে বা রাতে, তার হজ পূর্ণ হয়েছে এবং সে তার ইহরাম শেষ করেছে।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৩০৪৪)
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ বুলেটিন সূত্রে জানা যায়, এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজব্রত পালন করতে এক লাখ ২২ হাজার ৮৮৪ জন সৌদি আরব গেছেন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ২৬ হজযাত্রী মক্কা ও মদিনায় মারা গেছেন। বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যে সৌদিতে অবস্থানরত ১০ হাজার ও ২০২১ সালে ৬০ হাজার মুসলমান হজ পালন করেন। ২০২২ সালে করোনা বিধি মেনে বিশ্বের প্রায় ১০ লাখ মুসলমান হজ পালন করেন। করোনার আগের বছর ২০১৯ সালে প্রায় ২৫ লাখ মুসলমান হজ করেন।
