শিরিন শিলাকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন, পা ধরে মাফ চাইলো সেই ছেলে
শুটিং করছিলেন অভিনেত্রী শিরিন শিলা। পুলিশের পোশাক পরে শুটিং করছিলেন। এ সময় এক ছিন্নমূল কিশোর এগিয়ে আসে, শিরিন শিলাকে জড়িয়ে ধরে। নেহাত শিশু ভেবেই অভিনেত্রী তাকে বুকে স্থান দেন, জড়িয়ে ধরেন।
এমন একটি ভিডিও গত দুদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। তবে সেই কিশোর সম্পর্কে যখন জানতে পারলেন, সে রাত আর ঘুমাতে পারেননি এ অভিনেত্রী।
বুধবার সকালে কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে ছেলেটিকে প্রতারক আখ্যা দিলেন অভিনেত্রী। বললেন, ‘সে বিবাহিত।
এদিন সকালে শিরিন ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড দেন। যেখানে দেখা যায় ছেলেটি শিরিন শিলার পা ধরে মাফ চাইছে। শুটিং ইউনিটের কেউ কেউ তাঁকে পুলিশে দেওয়ার কথাও বলছিলেন।
আলাপকালে শিরিন শিলা বলেন, ‘ছেলেটিকে আমি একজন ছিন্নমূল শিশু ভেবে মমতা দেখিয়েছিলাম। কিন্তু সে এটার অপব্যবহার করেছে। বিষয়টি ভেবে সারারাত আমি ঘজুমাতে পারিনি। গতকাল ভোরে উঠেই তাঁর খোঁজ করতে শুরু করি। যেহেতু ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। সেহেতু সকলেই তাঁকে চিনে ফেলেছে। তার বাসায় গিয়ে দেখি, তার স্ত্রী রয়েছে। মা রয়েছে। অথচ সে আমাকে বলেছিল সে তার মাকে দেখেনি।’
অভিনেত্রী আরো বলেন, ‘এই ঘটনা আমাকে খুবই ধাক্কা দিয়েছে। আমি ভাবতে পারিনি মানুষ এভাবেও প্রতারণা করে। তাকে পুলিশে দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছি।’
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে শিরিন শিলা বলেন, ‘‘সকালে ‘দ্য রাইটার’ সিনেমার আউটডোরে শুটিং করার জন্য ধামরাইয়ের একটি এলাকায় যাই। শুটিং স্পটে উপস্থিত একটি ছেলে আমাকে দেখে এগিয়ে আসে এবং কথা বলতে চায়। আমি তাকে কাছে টেনে কথা বলি। ওই ছেলে তখন আবেগী কণ্ঠে আমাকে বলে, তার নাকি মা-বাবা নেই; তাকে কেউ ভালোবাসে না। শিলা বলেন, ওই ছেলের এ কথায় তার প্রতি মায়া জন্মে আমার। এ কারণে তার কাঁধে হাত রেখে তাকে আদর করি। তখন সে বলে তার খিদে লেগেছে, তাই আমি তাকে খাওয়ার জন্য কিছু টাকাও দিই। এর পরই সে আমাকে জড়িয়ে ধরে। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছি। আমার কাছে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে।’’
অভিনেত্রী আরো বলেন, ‘সে আমাকে আরো জানায়, সে নাকি কখনো গাড়িতে ওঠেনি। এ কারণে আমার সঙ্গে গাড়িতে উঠবে। এই বলেই আমাকে ফের জড়িয়ে ধরে হঠাৎ গালে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করে। তার এ ঘটনায় হতভম্ব হয়ে যাই আমি। পরে শুটিংয়ে থাকা লোকজন তাকে সরিয়ে নিলে আমি গাড়িতে করে ফিরে আসি।’
শিরিন শিলার এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। নানা প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুক সরগরম হয়ে উঠেছে।
