সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে বাউফলে দুই ছাত্র খুন
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ইন্দ্রকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর ছুরিকাঘাতে দশম শ্রেণির দুই ছাত্র খুন হয়েছে। হামলায় আরেক ছাত্রও আহত হয়। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।
সিনিয়র ও জুনিয়র দ্বন্দ্বে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে নবম শ্রেণির হামলাকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে কিশোর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও শিক্ষকরা।
পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, পায়ে পা লাগাকে কেন্দ্র করে দুই দিন আগে ইন্দ্রকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে একে অন্যকে চড়-থাপ্পড় মারে। এর জেরে গতকাল বিদ্যালয় ছুটির পর পাঙ্গাসিয়া সেতুর কাছে নবম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র (বয়স কম হওয়ায় নাম উল্লেখ করা হলো না) ওত পেতে থাকে। এ সময় দশম শ্রেণির তিন ছাত্র সেখান দিয়ে যাওয়ার পথে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাতে তিনজন আহত হয়। দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাদের মৃত্যু হয়।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কবির উদ্দিন বলেন, দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। তাদের পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের স্বজন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর বাড়ি যাওয়ার পথে পূর্ববিরোধের জের ধরে মারুফ, নাফিস ও সিয়ামকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পাঁচ থেকে ছয়জন ছাত্র। বিকেল সাড়ে ৫টায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই দুই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নাফিসের বোন মিতু আক্তার বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু ছিল না। কারা কিভাবে আমার ভাইকে খুন করেছে আমরা জানি না। ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।’
নাফিসের চাচা সুজন বলেন, ‘যারা হামলা চালিয়েছে তারা এলাকায় পরিচিত কিশোর সন্ত্রাসী। এর আগেও তারা এ রকম হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।’
মারুফের বাবা বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘মারুফের সঙ্গে কারো কখনো দ্বন্দ্ব ছিল না। ছেলে সকালে স্কুলে গেছে, বিকেলে প্রধান শিক্ষক খবর দেন যে মারুফকে কুপিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা এমনটি জেনেই শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসেছি।’
ইন্দ্রকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির দুই ছাত্র খুন হয়েছে। যারা হামলা চালিয়েছে তারা উচ্ছৃঙ্খলভাবে চলাফেরা করত।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী বাউফল থানার এসআই নাসির উদ্দিন মির্জা জানান, আহত সিয়ামের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেছেন। সে হামলাকারী পাঁচজনের নাম বলেছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।
নিহত নাফিসের স্বজনদের আহাজারি। গতকাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
ছবি : কালের কণ্ঠ
