মাজারের স্বচ্ছতা ও সম্মান—দুইয়ের পক্ষে কয়েস লোদীর অবস্থান, মিলল হত্যার হুমকি

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও নবগঠিত সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিইউকে) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক আইডি থেকে ভয়াবহ হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা গভীর উদ্বেগজনক। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একটি সংবেদনশীল ধর্মীয় ইস্যুতে পরিমিত, দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার পর একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এভাবে টার্গেট করা শুধু অনভিপ্রেতই নয়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সহনশীলতার জন্যও অশনি সংকেত।

সম্প্রতি সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহাসিক দানবাক্স জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিলগালা করার ঘটনাকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই এই হুমকির ঘটনা সামনে আসে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কয়েস লোদী জানান, গত দুই দিন ধরে ফেসবুকের বেশ কয়েকটি আইডি থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে; একই সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি। তিনি ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিগুলোর লিংক সংযুক্ত করে মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মাজারের দানবাক্স সিলগালা ইস্যুতে গণমাধ্যমে দেওয়া কয়েস লোদীর একটি পরিমিত, দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া-কেই কেন্দ্র করে একটি বিশেষ মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়াতে শুরু করে। অথচ তার বক্তব্যে কোনো উসকানি ছিল না; বরং ছিল স্বচ্ছতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান এবং একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান।

কয়েস লোদী সে সময় বলেছিলেন, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগকে তিনি পূর্ণ সমর্থন করেন এবং এ বিষয়ে সবাই একমত। তবে প্রশাসন যেভাবে তড়িঘড়ি করে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটি আরও সম্মানজনক, সমন্বিত ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে করা যেত। মাজার কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে কাজটি করলে পরিস্থিতি আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ হতো বলেও তিনি মত দেন।

তার এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে স্বাগতযোগ্য। কারণ তিনি একদিকে যেমন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন, অন্যদিকে তেমনি একটি ঐতিহাসিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ, সংলাপ ও অংশীজনদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। জনমত সংবেদনশীল এমন একটি ইস্যুতে এ ধরনের পরিমিত ও দায়িত্বশীল বক্তব্যই একজন পরিণত রাজনৈতিক নেতার পরিচয় বহন করে।

কয়েস লোদী স্পষ্ট করে বলেন, তিনি মাজার ইস্যুতে কোনো খারাপ বা অসম্মানজনক কথা বলেননি; বরং স্বচ্ছতার পক্ষেই কথা বলেছেন। এমনকি তিনি নিজে প্রশাসনের দায়িত্বে থাকলে মাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়েই প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একটি চক্র তার এই ইতিবাচক অবস্থানকে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করছে এবং সাইবার অপরাধের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

একজন দায়িত্বশীল নাগরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের এমন সুশীল, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সমাধানমুখী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হত্যার হুমকি দেওয়া সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু তার জবাব হতে পারে যুক্তি, আলোচনা ও ভিন্নমত—কখনোই ভয়ভীতি, অপপ্রচার কিংবা প্রাণনাশের হুমকি নয়। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা।

সিলেটের মতো আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যবাহী জনপদে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও জননেতাদের মধ্যে সংলাপ, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখাই হওয়া উচিত প্রধান পথ। কয়েস লোদীর বক্তব্য সেই পথেরই ইঙ্গিত দেয়—যেখানে সংস্কার আছে, আবার শালীনতাও আছে; জবাবদিহি আছে, আবার মর্যাদাবোধও আছে। তাই তার এই অবস্থানকে স্বাগত জানানোই সমীচীন।

এ বিভাগের অন্যান্য