চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮ লাখ টন কম লবণ উৎপাদন
এবার নভেম্বর থেকে মে মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সাড়ে ১৯ লাখ টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার টন কম বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)ল।
২০২৫-২৬ মৌসুমে ৪০ হাজার ১৫০ জন চাষি মোট ৬৭ হাজার ৭৫৭ একর জমিতে চাষ শুরু করে।
বিসিকের লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের (কক্সবাজার) উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘২৫ মে লবণ উৎপাদন মৌসুম শেষ হয়েছে। শুরুতে বিরূপ (কুয়াশা) আবহাওয়ার পাশাপাশি চলতি বছর আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে এবার লবণ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সর্বশেষ ২৪-২৫ মে কক্সবাজার অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় লবণের মাঠ নষ্ট হয়ে যায়।’
গত বছরের শেষার্ধে দেশে লবণের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন কম হওয়ায় প্রায় ১ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।
২০২৫ সালের মতো এবারো ঈদুল আজহার সময় এতিমখানা, মাদরাসা ও মসজিদ কমিটিগুলোতে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করে বিসিক। বিগত বছর ১৪ হাজার টন লবণ বিতরণ করলেও চলতি বছর দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিমাণ কমে ১১ হাজার টনে নেমে আসে। মূলত দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আসা কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ যথাযথ না হওয়ায় অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে দেশব্যাপী বিনামূল্যে লবণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বাড়বে বলে আশা করছে বিসিক।
সংস্থাটির লবণ সেলের প্রধান সরোয়ার হোসেন জানান, কয়েক বছর ধরে দেশে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৬৪ বছরের মধ্যে রেকর্ড উৎপাদন হয়। জমি ও চাষির সংখ্যা বাড়লেও আবহাওয়াজনিত কারণে লবণের উৎপাদন এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হয়নি। এরপরও চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের অসংগতি থাকলে সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে লবণের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।
