ইরানকে ৩ দিনের আল্টিমেটাম ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ
ইরানের সঙ্গে কি যুক্তরাষ্ট্রে শান্তিবৈঠক আদৌ হবে? হলেও তা ফলপ্রসূ হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে নানা মহলে। সেই আবহে এ বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার ইরানে নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন। শুধু তাই নয়, বেঁধে দিলেন সময়সীমাও। তার ইঙ্গিত, চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলেও বাড়ছে আশঙ্কা— কূটনৈতিক টেবিল ছেড়ে পরিস্থিতি আবারও যুদ্ধের ময়দানে গড়াতে পারে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন,‘যুদ্ধ থামাতে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের হাতে আর মাত্র ২ থেকে ৩ দিন সময় আছে। এর মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হলে নতুন হামলার মুখোমুখি হতে হবে।’
গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক লাইভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
জানা গেছে, মঙ্গলবারই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার পরিকল্পনা করেছিল ওয়াশিংটন। তবে শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিররাতের রাষ্ট্রনেতারা তাকে আপাতত হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প মনে করছেন, এখনও কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের সুযোগ রয়েছে। আর সেই কারণেই সাময়িকভাবে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকেট্রাম্পের এমন কড়া বার্তার পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে তেহরান থেকে। ইরানের এক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যেকোনো মুহূর্তে ব্যাপক হামলার মার্কিন হুমকি দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করা হবে।’ ইরান যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘সংলাপ মানে আত্মসমর্পণ নয়। তেহরান মর্যাদা, কর্তৃত্ব ও জাতির অধিকার রক্ষার মনোভাব নিয়েই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।’
সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা মূলত ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর একটি কৌশল। তবে এই চাপ যে কোনো সময় ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগেও নতুন ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছিল ইরান। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে উৎকণ্ঠা বাড়ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এখন সবার নজর আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক আলোচনার দিকে কারণ সেই আলোচনা সফল না হলে মধ্যপ্রাচ্য আবারও বড় ধরনের সংঘাতের মুখে পড়তে পারে।
