প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সরকারের: মাহদী আমিন

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। একই সঙ্গে অপপ্রচার থেকে সচেতন থাকা জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

আজ রোববার সকালে নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

পোস্টে মাহদী আমিন বলেন, সরকার প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। পাশাপাশি গুজব রটানো রোধে সার্বক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অপপ্রচার রোধে সাইবার নজরদারি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো চক্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে, ইনশাআল্লাহ। শিক্ষার্থীদেরও উচিত ফলাফলের আশায় এসব অসৎ কৌশলে জড়িয়ে না পড়া, কারণ গণমানুষের সরকার ‘আনন্দময় শিক্ষা’র যে সংস্কৃতি গড়ে তুলছে, তা এই ধরনের প্রতারণামূলক মানসিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

ইতোমধ্যে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে ভুয়া প্রশ্ন সাজিয়ে, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কারণে, প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গত কয়েক দিনে গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।

গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতরা অবৈধভাবে অর্থনৈতিক লেনদেনের উদ্দেশ্যে একটি স্বচ্ছ, সুন্দর ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নৈরাজ্য, হতাশা, উদ্বেগ ও নৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালায়।

মাহদী আমিন বলেন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে যে, একটি অসাধু চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক ও নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। চক্রটি অবৈধ অর্থ এবং সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে চলমান পরীক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

তিনি আরও বলেন, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে প্রশ্নফাঁস নিয়ে যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, এটি প্রকৃত কোনো প্রশ্নফাঁস নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা চক্রের কাজ। চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে নানান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকারের মাত্র দুই মাসেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি ও ইতিবাচক উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। আর এই প্রেক্ষাপটে একটি গোষ্ঠী মিসইনফরমেশন ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে, যা দুঃখজনক।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেদনে এক পরীক্ষার্থীর বর্ণনায় দেখা যায়, প্রতারকরা রাতে প্রশ্ন দেওয়ার কথা বলে নানা অজুহাত দেয়, এবং বলে “টেকনিক্যাল সমস্যা”, “অল্পক্ষণ পর দেওয়া হবে” ইত্যাদি। অথচ পরদিন দাবি করা হয় আগেই প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল। এতে পরিষ্কার বোঝা যায়, তাদের আসলে প্রশ্ন দেওয়ার কোনো সক্ষমতাই ছিল না।

মাহদী আমিন বলেন, চক্রটি প্রথমে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা নেয়, এরপর সময়ক্ষেপণ করে এবং শেষপর্যন্ত গ্রুপ বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। তাদের আরেকটি কৌশল হলো, পরীক্ষা শুরুর পর প্রশ্ন সংগ্রহ করে সেটিকে আগে আপলোড করা হয়েছিল, এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়ে পরে তাদের ফাঁদে পা দেয়।

ওই চক্রটির প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মূলত তারা পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর আগের রাতের আপলোড করা ভুয়া প্রশ্নের ছবি সরিয়ে মূল প্রশ্ন রিপ্লেস করে, যাতে পরবর্তীতে যারা প্রশ্ন কিনতে চাইবে, তাদেরকে দেখানো যায় যে তাদের ফাঁস করা প্রশ্ন সঠিক ছিল। ফ্যাসিবাদের সময় থেকেই এই অপকৌশল গ্রহণ করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল এই অপচক্র, এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই বিষয়ে সজাগ রয়েছে।

সত্যিকার প্রমাণ না থাকায় সেই বেসরকারি টেলিভিশন নিজ দায়িত্বে প্রতিবেদন সরিয়ে নেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, তারা (বেসরকারি টেলিভিশন) বক্তব্য প্রদান করে: “ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারিত এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সম্পর্কিত প্রতিবেদনটিতে কিছু ত্রুটি ও ঘাটতি থাকায় বোর্ডের প্রতিবাদলিপির পূর্বেই তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। আমরা দর্শক ও পাঠকদের নিকট সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দিতে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তবে এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মও নিশ্চিত করেছে, এটি প্রশ্নফাঁস নয়, বরং পরিকল্পিত প্রতারণা। প্রযুক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁস না ঘটে। এই প্রচেষ্টা সফল করতে সকল অংশীজনের সম্মিলিত সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।

অপপ্রচারের কান না দিয়ে সচেতন থাকা জরুরি বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘তথ্য যাচাই ছাড়া কিছু বিশ্বাস না করা উচিত, আর সমালোচনাও হওয়া উচিত তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল। সরকার শিক্ষাখাতকে ঢেলে সাজাতে সর্বদা সচেষ্ট, আমরা চাই রাষ্ট্র গঠনের সাথে প্রত্যেকে যে যার জায়গা থেকে অংশগ্রহণ করুক।’

১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছিল উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সেই সময়ে শিক্ষকদের সম্মান, মর্যাদা ও অবস্থান নষ্ট করা, পাঠ্যপুস্তকে বিকৃত ইতিহাস, বিতর্কিত বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্তি এবং মেধার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতির চিন্তাশক্তি ও যুক্তি প্রবণতা ধ্বংস করার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বর্তমান সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন,‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মূল লক্ষ্য। তারই ফলে মাত্র দুই মাসে দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সুনাগরিকের গুণাবলী সম্বলিত শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ আমরা গড়ে তুলব একটি মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ।’

এ বিভাগের অন্যান্য