নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী, হুইপ ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
সিলেটের সময় ডেস্ক :
সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত হত্যা চেষ্টা মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামানবাবর। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দেন তারা।
আজ সোমবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন তারা। একইসঙ্গে এই মামলাকে মিথ্যে, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিন আসামি।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি আবুল হোসেন বলেন, আদালত আগামী ২১ এপ্রিল যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী এ টি এম ফয়েজ বলেন, মামলার রায় প্রদানের আগে ৩৪২ ধারায় আদালতে আসামি পরীক্ষা করা হয়। এতে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবার, জিকে গৌছসহ অন্য আসামিরা স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এসময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন তারা।
আদালতে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনকালে সংসদের হুইপ জি কে গউছ বলেন, ‘এই মামলার কারণে ২৬ মাস নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এই মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। আমি মামলার বাদীর শাস্তি দাবি করছি।’
এর আগে আজ বেলা ১২টার দিকে আরিফুল হক চৌধুরীসহ অন্য আসামিরা আদালত চত্বরে এসে হাজির হন। এ সময় বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও দলীয় নেতাকর্মী তাদের ঘিরে রাখেন। এই মামলার শুনানির জন্য আদালতের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়।
পরে শুনানিতে সিলেট জেলা পিপি আশিক উদ্দিন, মহানগর পিপি বদরুল আলম চৌধুরীসহ অনেকে অংশ নেন।
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ সমাবেশে প্রধান অথিতির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। এ হামলায় এক জন নিহত ও ২৯ জন আহত হন। অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই ঘটনায় দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনার দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেট সিটি করপোরেশনেরে তৎকালীন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী রয়েছেন।
