অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা: দিরাইয়ে ৪ পাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা
সিলেটের সময় ডেস্ক :
লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দিরাই থানায় চারজন মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) নিহত অভিবাসনপ্রত্যাশী জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের সোহানুর রহমান এহিয়ার বাবা ছালিকুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের মুজিবুর মিয়া, জগদল গ্রামের ইতালি প্রবাসী সালেহ আহমেদ, জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামের ছায়েক আহমেদ এবং ছাতক উপজেলার জসিম মিয়া। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তবরুক বন্দর থেকে একটি নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় যাত্রা করলেও মাঝসমুদ্রে পথ হারিয়ে ফেলে নৌকাটি। টানা ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে সেটি।
খাবার ও পানির তীব্র সংকটে যাত্রীরা অসহায় হয়ে পড়েন। ক্লান্তি, অনাহার ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে একে একে মারা যান অন্তত ২১ জন। পরে দালালদের নির্দেশে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে গ্রিসের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে ১১ জন সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা। তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, দালালচক্রের মিথ্যা আশ্বাস ও প্রলোভনে পড়ে তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় পা বাড়ান। প্রথমে কম টাকার কথা বলা হলেও পরে ধাপে ধাপে খরচ বাড়িয়ে অনেকের কাছ থেকে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
