আরাগচি ও গালিবাফকে ‘হিট লিস্ট’ থেকে সরাল ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ
পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে হত্যার তালিকা বা হিট লিস্ট থেকে সরিয়ে নিয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
পাকিস্তানি সূত্রটি জানায়, ‘ইসরায়েলিদের কাছে তাদের (আরাগচি ও গালিবাফ) কোঅর্ডিনেটস ছিল এবং তারা তাদেরকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছি, যদি তারাও নিহত হয় তাহলে কথা বলার মতো আর কেউ থাকবে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলিদের পিছু হটতে বলেছে।’
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এই মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অফিসও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
প্রথমে এই খবর যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এই দুই শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাকে ইসরায়েলের হত্যার তালিকা থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জার্নাল জানিয়েছে, দুই কর্মকর্তাকে চার থেকে পাঁচ দিনের জন্য তালিকা থেকে সরানো হয়েছে, তবে এতে পাকিস্তানের কোনো ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
পাকিস্তান, মিশর এবং তুরস্ক তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে।
ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরান উভয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছে, যখন অন্যান্য দেশের জন্য এমন চ্যানেল প্রায় বন্ধ। ইসলামাবাদকে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ভেন্যু হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো ১৫-দফা প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, যা পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাবে ইরানের অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে ফেলা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে বলে ইসরায়েলি কেবিনেট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরান চুক্তি করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে আরাগচি বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে কিন্তু সংঘাতের অবসান ঘটাতে আলোচনা করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, কোনো জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাই আক্রমণ থেকে রেহাই পাবেন না। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, তিনি ও নেতানিয়াহু সামরিক বাহিনীকে আগাম অনুমোদন ছাড়াই কর্মকর্তাদের টার্গেট করার অনুমতি দিয়েছেন।
পাকিস্তানের অনুরোধের পর আরাগচি ও গালিবাফকে ইসরায়েলের হিট লিস্ট থেকে সরানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র নাদাভ শোশানি বলেন, ‘সামরিক বাহিনী প্রতিটি অপারেশন এবং প্রতিটি হামলার আগে কঠোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। আমি নির্দিষ্ট সম্ভাব্য টার্গেট নিয়ে কথা বলব না।’
