পিটিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়েছে আবাসিক হোটেলের মালিকের ২ পা
সিলেটের সময় ডেস্ক :
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক আবাসিক হোটেল মালিককে পিটিয়ে দুই পা থেঁতলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। আহত লোকমান মৃধার পরিবারের দাবি, হোটেলে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় এই হামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত রাসেল খান বলছেন, পাওনা টাকার বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।
গতকাল রোববার রাতের এ ঘটনায় গুরুতর আহত লোকমান মৃধাকে প্রথমে স্থানীয় ২০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সংকটাপন্ন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী লোকমান মৃধা ‘কুয়াকাটা প্যালেস’ নামের একটি আবাসিক হোটেলের মালিক। অভিযুক্ত রাসেল খান তার প্রতিবেশী ও আত্মীয়।
আহতের পরিবারের অভিযোগ, রাখাইন মহিলা মার্কেটের ঝিনুক ব্যবসায়ী রাসেল খান ও মিরাজ নামের এক ব্যক্তি নিয়মিত হোটেলে গিয়ে ইয়াবা সেবন করতেন। এতে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে লোকমানের দুই পা থেঁতলে দেওয়া হয়। হামলায় তার চারটি দাঁত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। লোকমানের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
আহতের মেয়ে সাজেদা বেগম বলেন, ‘আমার বাবা হোটেলে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাসেল খান বলেন, লোকমান মৃধার কাছে তার প্রায় ২ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে, যা ফার্নিচার বিক্রিবাবদ। দীর্ঘদিন টাকা চাওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন টাকা চাইতে গেলে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তিনি লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে দাবি করেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, হোটেলে মাদক বিক্রেতাদের আনাগোনা রয়েছে এবং এ নিয়ে তাকে অপমান করা হয়।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
