আদানির সঙ্গে চুক্তির পর্যালোচনায় ৪ মন্ত্রীর বৈঠক
ক্ষমতায় বসার তিন দিনের মাথায় বহুল আলোচিত আদানি চুক্তি পর্যালোচনা করতে বসেছে বিএনপি সরকার। চার মন্ত্রীকে নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। সেখানে চুক্তি বাতিল করার বিষয়ে কয়েকজন মতামত দিলেও বিষয়টি নিয়ে আরো পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়।
সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে তার দপ্তরে এই বৈঠক হয়।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আদানির চুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী সপ্তাহে একটা কিছু হতে পারে। আইনমন্ত্রীও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, এই সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাই দেশের স্বার্থে আদানির চুক্তি খতিয়ে দেখবে।
তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার তৃতীয় দিনেই কেন আদানি চুক্তি নিয়ে হঠাৎ করে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হলো, সে বিষয়ে কেউ কিছু জানাতে রাজি হননি। জানা গেছে, আদানির চুক্তিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় কমিটি তার প্রতিবেদনে বলেছে, আদানি চুক্তিতে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কমিটির রিপোর্টে আরো বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশে। কিন্তু কোনো ধরনের কথা ছাড়াই হুট করে এটি ভারতের ঝাড়খণ্ডে বসানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া কয়লার দাম, ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াও নানা বিষয় নিয়ে প্রচুর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে আদানির বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, আদানির এক কর্মকর্তার বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুস লেনদেনের পরোক্ষ প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় কমিটি এবং আদানি কিভাবে পুরো চুক্তি নিজের মতো করে নিয়েছে তারও কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
জাতীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আদানির সঙ্গে চুক্তির সময়ে (২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯) সাবেক বিদ্যুৎ সচিব এবং আদানি চুক্তির সমঝোতা কমিটির প্রধান আহমেদ কায়কাউসের সঙ্গে দেশে-বিদেশে আদানির কর্মকর্তারা একান্তে দেখা করেছেন। এমনকি আহমেদ কায়কাউসের (পরবর্তী সময় সাবেক মুখ্য সচিব) বিদেশের অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের লেনদেনও হয়েছে।
