ইমরান খানের সুচিকিৎসা নিশ্চিতের দাবিতে সরব ওয়াসিম-ওয়াকাররা
খেলাধুলা ডেস্ক ঃ
স্বাস্থ্য নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী এক্স (সাবেক টুইটার)-এ জানান, ‘তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া এবং একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
ইমরানের যথাযথ সুচিকিৎসা নিশ্চিতের দাবিতে বিরোধী দল পার্লামেন্ট হাউসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে, যা দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। বিরোধীদের চাপের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এলো।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান কয়েক মাস ধরে কারাগারে কার্যত একাকী অবস্থায় রয়েছেন। তার ডান চোখের বেশিরভাগ দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবর প্রকাশ্যে আসার পর উদ্বেগ বাড়ে। তার আইনজীবী দল জানিয়েছে, চোখের সংক্রমণ থেকে গুরুতর দৃষ্টিহানি হয়েছে এবং সরকারের অবহেলাই তার স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ। তবে সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইমরানের চিকিৎসা পাওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা। সাবেক অধিনায়ক ও সতীর্থ এক্সে লিখেছেন, ‘আমাদের অধিনায়ক ইমরান খানের অসুস্থতার খবর হৃদয়বিদারক। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে এবং তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেবে-এই আশা করি।’
ওয়াকতার ইউনিসও রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় নায়ক, যিনি খেলাধুলায় সর্বোচ্চ গৌরব এনে দিয়েছেন এবং ক্যানসার হাসপাতাল গড়ে অসংখ্য মানুষকে সহায়তা করেছেন, তিনি এখন জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তায় ভুগছেন।’
শনিবার শোয়েব আখতার জানান, তিনি গত তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে শওকত খানম মেমোরিয়াল ক্যাসনার হাসপাতাল ও রিসার্চ সেন্টারের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছেন-যে হাসপাতালটি ইমরান তার মায়ের স্মরণে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইমরানের চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবরে তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।
শহীদ আফ্রিদি জানান, চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার এবং তা নিশ্চিত করা উচিত। রমিজ রাজা যিনি ১৯৯২ বিশ্বকাপে ইমরানের বোলিংয়ে ধরা ক্যাচে পাকিস্তানকে শিরোপা জিততে সহায়তা করেছিলেন, আশা প্রকাশ করেন, ‘মানবিকতা জয়ী হবে।’ মোহাম্মদ হাফিজও তার সুস্থতা কামনা করে যথাযথ চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের বাইরেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। ভারতের সাবেক ব্যাটার অজয় জাদেজা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ইমরানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্টে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিভিন্ন মামলায় তাকে একাধিক কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ইমরান ও তার সমর্থকদের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
