দুই ম্যাচ হাতে রেখেই অ্যাশেজ ধরে রাখল অস্ট্রেলিয়া
খেলাধুলা ডেস্ক ঃ
অ্যাডিলেড ওভালে তৃতীয় অ্যাশেজ টেস্টে ইংল্যান্ডকে ৮২ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই অ্যাশেজের ট্রফি ধরে রাখল অস্ট্রেলিয়া। রোববার এই হারের মাধ্যমে আরও একটি ব্যর্থ অস্ট্রেলিয়া সফরের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো ইংল্যান্ডকে।
জয়ের জন্য বিশ্বরেকর্ড ৪৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পঞ্চম দিনে দৃঢ় লড়াই চালালেও শেষ পর্যন্ত ৩৫২ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক নেন তিনটি উইকেট, আর চা-বিরতির আগে শেষ ব্যাটার জশ টাংকে ফিরিয়ে ম্যাচ শেষ করেন স্কট বোল্যান্ড।
পার্থ ও ব্রিসবেনে আট উইকেটের ব্যবধানে হারের পর টানা তিন ম্যাচে অ্যাশেজ হারল ইংল্যান্ড-যা তাদের টানা চতুর্থ অস্ট্রেলিয়া সফরে একই পরিণতি। এর সঙ্গে যোগ হলো, অস্ট্রেলিয়ায় তাদের শেষ ১৮ টেস্টের মধ্যে ১৬টিতেই পরাজয়। সামনে আরও দুটি টেস্ট থাকলেও, এবারের আত্মসমর্পণ আগের সফরগুলোকেও হতাশার দিক থেকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সিরিজ শুরুর আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের আশা ছিল, অধিনায়ক বেন স্টোকসের আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য আর ‘বাজবল’ কৌশলে ২০১০–১১ সালের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু অ্যাডিলেডে এসে তারা নিজেদের চিরচেনা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ছেড়ে রক্ষণাত্মক টেস্ট ব্যাটিংয়ে ফিরেও বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়।
পঞ্চম দিনে ৬ উইকেটে ২০৭ রান নিয়ে খেলতে নেমে ইংল্যান্ডের আশা ভরসা ছিল অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস ও উইকেটকিপার জেমি স্মিথের ওপর। জ্যাকস রান নিতে গিয়ে গোড়ালি মচকালেও ৪০ মিনিট ব্যাটিং চালিয়ে যান, এরপর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়। যদিও সেটি ছিল ক্ষণিকের ঝড়, দ্রুতই রোদে ভরে ওঠে মাঠ।
সারে-র এই দুই ব্যাটার পুরনো বলে ৫০ রানের জুটি গড়েন। এ সময় স্পিনার নাথান লায়ন হ্যামস্ট্রিং চোটে মাঠ ছাড়লে কিছুটা স্বস্তি পায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পর স্মিথ আক্রমণাত্মক হয়ে প্যাট কামিন্স ও স্টার্ককে টানা দুটি চার মারেন। কিন্তু ব্যবধান ১৫০ রানে নামার পর টানা তৃতীয়বার স্টার্ককে মারতে গিয়ে ৬০ রানে মিড-অন অঞ্চলে পিছিয়ে দৌড়ে ক্যাচ ধরেন কামিন্স।
জ্যাকস শেষ দিকের ব্যাটার কার্সের সঙ্গে ধীরস্থিরভাবে খেলেন। কার্স ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন এবং দু’জনে মিলে ৫২ রানের জুটি গড়েন। ব্যবধান ১০০ রানের নিচে নামলে স্বাগতিক দর্শকরা কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন। তবে স্টার্ক ফিরে এসে বিপদ সামাল দেন। ৪৭ রানে থাকা জ্যাকস স্টার্কের বাইরে সরে যাওয়া বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে মার্নাস লাবুশানের অসাধারণ এক হাতে ধরা ক্যাচে বিদায় নেন—যিনি আগের দিনও অলি পোপকে চোখধাঁধানো ক্যাচে ফেরান।
এরপর জোফরা আর্চার বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ পয়েন্টে জেক ওয়েদারাল্ডের হাতে ধরা পড়েন। শেষ পর্যন্ত বোল্যান্ডের বলে টাংয়ের ক্যাচও লাবুশানের হাতে গেলে ম্যাচ শেষ হয়।
অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার অ্যালেক্স কেয়ারি প্রথম ইনিংসে ১০৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৭২ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন। আর তৃতীয় ইনিংসে ট্রাভিস হেডের ১৭০ রানই মূলত জয়ের ভিত গড়ে দেয়—অ্যাডিলেড ওভালে এটি ছিল তার টানা চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি।
