মেয়েকে নিয়ে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান
দলীয় নেতাকর্মীসহ সমগ্র দেশবাসীর বহু প্রতীক্ষার পর ঘনিয়ে আসছে ঐতিহাসিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় আসবেন তিনি।
বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তারেক রহমান রাজধানীর হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের শীর্ষনেতা ও দলের কাণ্ডারি তারেক রহমানের এ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে অবিস্মরণীয় করে রাখতে চান। এ জন্য বিমানবন্দরে কিংবা তার আশপাশ এলাকায় লাখ লাখ মানুষের জমায়েতের মাধ্যমে নজিরবিহীন গণসংবর্ধনার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। প্রিয় নেতাকে বরণ ও স্বাগত জানাতে বিএনপির উদ্যোগে দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে আহ্বায়ক ও রুহুল কবির রিজভীকে সদস্যসচিব করে একটি সংবর্ধনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার আয়োজন হবে ‘ঐতিহাসিক এবং মানুষের উপস্থিতি হবে স্মরণীয়’ বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, এ দেশের গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ এবং আগামী দিনে যিনি বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন— তাঁকে দেখার জন্য দেশের সব জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে করতে আমরা গণতন্ত্রকে অবমুক্ত করতে পেরেছি। এই ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগ্রামে টানা ১৬-১৭ বছর তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
‘তারেক রহমানকে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকা- নাকি অন্য কোথাও সংবর্ধনা দেওয়া হবে’— এমন প্রশ্নের জবাবে দলের স্থায়ী কমিটির এ নেতা বলেন, আমরা জায়গাগুলো দেখছি। যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাঁকে একনজর দেখার জন্য ও কথা শোনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে— এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমরা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। জনদুর্ভোগ যাতে না হয়, সেটাও বিবেচনায় আছে। আমরা সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শন করছি, চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা জানানো হবে।
গত শুক্রবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্যে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি নিজেও দেশে ফেরার এ তারিখ নিশ্চিত করেন।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য ব্রিটিশ পাসপোর্ট নয়, বাংলাদেশি ট্রাভেল ডকুমেন্ট ব্যবহার করছেন।
যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৮ ডিসেম্বর তারেক রহমানের নামে একটি ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর এ ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেছিল তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে ব্রিটিশ পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক কামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেবে।’
দলীয় সূত্র জানান, তারেক রহমান ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে ফেরার কথা রয়েছে।
