দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে বিএনপি প্রস্তুত

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে বিএনপি প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বহু বছর অব্যবস্থাপনার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই অবশ্যই কঠিন হবে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসই প্রমাণ করে, যখন সৎ নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও জনগণের সমর্থন একসঙ্গে আসে, তখন পরিবর্তন অসম্ভব নয়। জনগণ যদি দায়িত্ব দেয়, বিএনপি আবারও সেই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সরকারের কোনো দুর্নীতির তদন্তে অনুমতি নেওয়ার বিধান বাতিল করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বিএনপি। দুর্নীতি কিভাবে বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দিচ্ছে তা বুঝতে দূরে যাওয়ার দরকার নেই।

 

মেধার ভিত্তিতে চাকরি খুঁজতে বের হওয়া একজন গ্র্যাজুয়েট, মাসের পর মাস ধরে একটি সাধারণ সরকারি সেবা পেতে হিমশিম খাওয়া কৃষক, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তরুণের পরিবারের দুর্ভোগ বা ব্যবসা বাঁচাতে ঘুষ দিতে বাধ্য উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতাই বাস্তবতার চিত্র দেখায়। খাবারের দাম কেন বাড়ে, স্কুলে ভালো পড়াশোনা কেন মেলে না, রাস্তায় কেন নিরাপত্তা নেই, সবকিছুর পেছনে সেই একই কারণ—দুর্নীতি। এটি লাখো মানুষের প্রতিদিনের জীবনে দম বন্ধ করে ফেলেছে।
 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণ আমাদের কাছে কথার ফুলঝুরি পছন্দ করে না।

জনগণ আমাদের কাছে প্রত্যাশা করে, কিভাবে আমরা দেশকে পরিচালনা করব, তাদের সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করব। পুরো পরিকল্পনা জনগণ আমাদের কাছে দেখতে চায়। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ডিটেইল প্ল্যানিং শুধু বিএনপির আছে, আর কোনো দলের নয়।’ 

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিএনপির কাছেই নিরাপদ। দেশ ও জনগণকে পক্ষে নিতে না পারলে দেশের অস্তিত্ব নিয়ে ভবিষ্যতে প্রশ্ন দেখা দেবে।

বিভাজন ও বিভক্তি রেখে দেশ গড়া সম্ভব নয়। 

অনেকেই নানা বক্তব্য দিলেও ক্ষমতায় গেলে দেশ কিভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিএনপির মতো বিস্তারিত কেউ তুলে ধরেনি বলেও মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে এবং রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

তারেক রহমান দাবি করেন, দুর্নীতি কমানোর ধারাবাহিক রেকর্ড একমাত্র বিএনপিরই আছে। তিনি আগামী দিনের দুর্নীতি দমন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—আদালত, দুদক, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি সেবায় পূর্ণ স্বাধীনতা; উন্মুক্ত দরপত্র, সম্পদ বিবরণী ও রিয়েল-টাইম অডিট; আধুনিক পুলিশিং ও দ্রুত বিচার ব্যবস্থা; সব লাইসেন্স-জমি-পেমেন্ট অনলাইনে এনে ঘুষের অবসান; হুইসলব্লোয়ারদের পূর্ণ সুরক্ষা; শিক্ষাব্যবস্থায় সততা ও নৈতিকতা পাঠ; ডিজিটাল ব্যয় নজরদারিতে শক্তিশালী আর্থিক পর্যবেক্ষণ।

শিক্ষা বিষয়ে তিনি জানান, স্কুল পর্যায়ে একাধিক ভাষা বাধ্যতামূলক করা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভাষা নির্বাচন করতে পারবে। ইংরেজির পাশাপাশি আরো একটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। ধর্মীয় অবকাঠামো ও সমাজকল্যাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় তিন লাখের মতো মসজিদ আছে। মসজিদগুলোতে যে ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবরা আছেন, তাঁদের সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।

‘দেশ গড়া পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল ২০০৪ সালে দুদক গঠন : গতকাল সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিএনপির নানা পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নতুন নয়, এটা বহু যুগের আলোচনার বিষয়। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস আমাদের সেই লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, আর মনে করিয়ে দেয় সেই সময়টাও, যখন বাংলাদেশ সত্যিকারের অগ্রগতি করেছিল। আর সেই সময়টা এসেছে মূলত বিএনপির আমলে।’

বিএনপির সময়েই ‘দুদক’ গঠন করা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল ২০০৪ সালে ‘দুদক’ গঠন; একটি স্বাধীন কমিশন, যেখানে সরকার চাইলে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। বিশ্বব্যাংক, এডিবি সবাই বলেছিল—এটি বাংলাদেশের জবাবদিহির বড় অগ্রগতি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে তারেক রহমানের বাণী : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের দেশ দীর্ঘ দেড় দশক ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কালো অধ্যায় পার করেছে, যখন মানবাধিকার সমাধিস্থ করা হয়েছিল। গণতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছিল, রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নেওয়া হয়েছিল হাতের মুঠোয়। ওই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁরা মিথ্যা মামলা, কারাবাস, শারীরিক নির্যাতন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।’ গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে তিনি এই বাণী দেন।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, “‘মানবাধিকার : আমাদের প্রতিদিনের জন্য অপরিহার্য’ এ বছরের প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মৌলিক অধিকার হারানো নির্যাতিত মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর কোথাও যেন ভবিষ্যতে আর কেউ মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য মানবাধিকার রক্ষা আমাদের প্রতিদিনের জন্য অপরিহার্য।”

সাবেক সেনা কর্মকর্তার কাছে দুঃখ প্রকাশ : স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ফাতেমী রুমির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গতকাল রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা হয়। সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য শেষে তারেক রহমান দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ সময় ১০১ জন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরিচালনা করেন মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি স্ক্রিনে একজনকে দেখতে চাচ্ছি, এটা একটু পার্সোনাল ব্যাপার, তার পরও আমি এখানে উল্লেখ করতে চাচ্ছি। আমাদের সামনে এখানে আম্মার সময় উনি ডিজিএসএসএফ ছিলেন। রুমি সাহেব উপস্থিত আছেন। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে যে একটা মিছিল হয়েছিল একবার। সেই পুরান ঢাকা থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত এবং পুরো মিছিলটা আমি হেঁটে এসেছিলাম, আম্মাও (বেগম খালেদা জিয়া) ছিলেন। সেই মিছিলে অনেক ভিড়, হট্টগোল ছিল। আপনি আমাকে একটা কিছু বলেছিলেন। আমি সেদিন আপনার সঙ্গে একটু রূঢ় ব্যবহার করেছিলাম। সবকিছু মিলিয়ে আই অ্যাম ভেরি স্যরি ফর দ্যাট।’

এ বিভাগের অন্যান্য