আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের অবক্ষয়: টোকাই থেকে কেন্দ্রীয় নেতা
বশির আহমদ জুয়েল
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিনিধিত্বকারী দল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার সুযোগে দলের ভিতরে এমন এক সাংগঠনিক অবক্ষয় তৈরি হয়েছে, যা এখন খোলাখুলিভাবেই জনসম্মুখে দৃশ্যমান। যে কারণে বঙ্গবন্ধু কণ্যাকে ৫ আগস্ট ২০২৪ এ দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্ব দখল করেছিল এমন সব লোক, যারা স্থানীয় পর্যায়ে একজন প্রকৃত কর্মী হিসেবেও টিকে থাকার যোগ্যতা রাখে না। এরা মূলত দলীয় ত্যাগী, মেধাবী ও পরিশ্রমী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অর্থ, চাটুকারিতা আর পৃষ্ঠপোষকতার জোরে উপরে উঠে এসেছে। ফলে যাদের পাড়া-মহল্লায় টোকাই বা ছিনতাইকারী হিসেবে চেনা যেতো, তারাও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পদ-পদবী দখলে তেখেছে। এর মূল কারণ ছিল চেইন অব কমান্ডের ভাঙন। আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনগুলোতে কোনো সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বা নীতি-আদর্শ কাজ করেনি। বরং, নেতৃত্ব বণ্টন হয়েছে ধান্ধা, ভাগাভাগি ও অতি লোভের ভিত্তিতে। কেন্দ্রীয় নেতারা নিজের স্বার্থ রক্ষা ও অর্থ উপার্জনের জন্য মেধাহীন, অসৎ, অপরাধপ্রবণ মানুষদের নেতৃত্ব দেয়া হয়েছিল। ফলে আজ দেশ ও জাতির দুর্দিনে অনেকেই গর্তবাস বেছে নিয়েছে। এ তালিকায় আওয়ামীপন্থী অনেক বুদ্ধিজীবীও রয়েছেন। যারা শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সুশিল ব্যানারে বাণিজ্য করেছেন।
ফলশ্রুতিতে—দলীয় আদর্শ ও ত্যাগের মূল্য হারিয়েছে। প্রকৃত কর্মীরা নির্যাতিত ও কোণঠাসা হয়েছে। অঙ্গ সংগঠনগুলো পরিণত হয়েছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার আখড়ায়। সমাজে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ভেঙে পড়েছে। যা থেকে উত্তরণের রাস্তাটা সত্যিই কঠিন।
একসময় জনগণ আওয়ামী লীগকে মুক্তিযুদ্ধের দল হিসেবেই শ্রদ্ধা করত। একই জনগণ এক পর্যায়ে তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের দেখে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হতো। স্থানীয় পর্যায়ের টোকাইরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসার এই কৃত্রিম প্রক্রিয়া শুধু দলের নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিরও এক ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডি।
আওয়ামী লীগের এই অবক্ষয় প্রমাণ করে, যেখানে নীতি নেই, সেখানেই ধান্ধা রাজনীতি প্রভাব বিস্তার করে। আর যখন নেতৃত্বে উঠে আসে টোকাই মানসিকতার লোকেরা, তখন দল আর জনগণের সম্পর্ক চিরদিনের মতো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যা পূর্বের স্থানে যেতে নির্ণয়হীন পথ হাঁটতে হবে।
