‘নিজ চোখে দেখেছি আমার ছেলে আগুনে রুমে আটকে আছে’
সিলেটের সময় ডেস্ক :
প্রতিদিনের মতোই ছোট ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে গিয়েছিলেন সালেহা বেগম।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ছেলের শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন তিনি। অশ্রুসিক্ত চোখে ছেলের যন্ত্রণার কথা বলতে বলতে হাহাকার করে উঠছিলেন, ‘বাবাটার শরীর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আল্লাহ, তুমি আমার জীবন নিয়ে হলেও ছেলেকে ভালো করে দাও।
গাজীপুরের বোর্ডবাজার থেকে মাকিনকে প্রতিদিন স্কুলে আনা-নেওয়ার দায়িত্ব ছিল মায়েরই। সোমবারও দুপুর একটার দিকে স্কুল ছুটির পর ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ছুটির কিছুক্ষণ পরই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
ভয়ার্ত সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে মাকিনের মামা সুমন বলেন, ‘প্রথম দেড় ঘণ্টা ছেলের কোনো খোঁজই ছিল না। পরে এক শিক্ষক জানালেন, মাকিন হাসপাতালে আছে। প্রথমে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, পরে বার্ন ইনস্টিটিউটে।’
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাকিনের শরীরের ৬৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। শ্বাসনালীও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কথা বলতেও পারছে না সে। আইসিইউতে রাখা হয়েছে তাকে।
মাকিনের মামাতো ভাই মাহি হায়দার দুর্জয় জানান, মাকিন দুই ভাইয়ের ছোট। বড় ভাই আব্দুল মোমিন মাহাদি একই স্কুল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।
