লিবিয়া : তিন যুবকের জীবন ঝুলছে মুক্তিপণে, দিশাহারা পরিবার

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের নলী জয়নগর গ্রামের তিন যুবক গত বছরের জুলাই মাসে দালালদের মাধ্যমে লিবিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেই যাত্রা ৭ মাসেও শেষ হয়নি তাদের। বরং তাদের নির্মম নির্যাতন ও অনিশ্চয়তায় জীবন কাটাতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী তিন যুবকের পরিবার দালালের মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

 

ভুক্তভোগী ওই তিন যুবক হলেন- মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের নলী জয়নগর গ্রামের লোকমান হোসেন (৩৫), মো. ইউনুস (৩৪) ও জসিম (৩৪)।

ভুক্তভোগী লোকমানের স্ত্রী রিমা আক্তার বলেন, স্বামীকে ফিরে পেতে ১৫ কাঠা জমি বিক্রি করেছি। আমার শ্বশুরের চাকরি টাকা আগেই দালালদের দিয়েছি। এছাড়াও ধার দেনা করে অনেক টাকা দিয়েছি।

তবুও আমার স্বামীকে ফিরে পাইনি। তিনি কীভাবে থাকেন, কোথায় থাকেন তা আমরা কিছুই জানি না। মাঝে মধ্যে ইমোতে কল দেয়, কিন্তু শুধু কথা শোনা যায়। দালালরা টাকার কথা বলেই কল কেটে দেয়।
তিনি আরও বলেন, গত বছরে  মানব পাচার আইনে মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা করি যা এখনও তদন্ত করছে পুলিশ। তারা তদন্ত করে আমার স্বামীর লাশ আনবে। যারা এই দালালি করে লোক নেয় তারা তো মাফিয়া। তাদেরকে কি করবে। তাই এখন দেখি আবার দালালরে কিছু দিয়া স্বামীকে পাই কিনা।

 

লোকমানের সঙ্গে একই সময়ে লিবিয়ার পথে পাড়ি দেন তার দুই বন্ধু ইউসুফ ও  জসিম।

ইউসুফের বাবা কুদ্দুস গোলদার বলেন, পোলাডায় যে কার বুদ্ধিতে বিদেশ গেল জানি না। এখন ভাবি পোলাটার লাশও দেখতে পারব না। সে যাওয়ার পর থেকে আমার যা ছিল তা বিক্রি করে পনেরো লক্ষ টাকা দিয়েছি। আর কত দিব জানিনা। তারা টাকা নিয়ে হলেও আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিক।

এদিকে ভুক্তভোগী লোকমান ও ইউসুফের পরিবার বিষয়টি নিয়ে কথা বললেও  জসিমের পরিবার সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তাদের ধারণা,  বাড়ির কাছেই দালালদের লোক থাকে। তাই তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে সন্তানের ক্ষতি হতে পারে।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুলাহ আল মামুন বলেন, লোকমানের স্ত্রী রিমা আক্তার ২০২৪ সালে একটি মামলা করেন। সেই মামলা জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করছে। এ মামলার অগ্রগতির বিষয়ে তারা বলতে পারবে। কারণ আমি এ থানায় যোগদানের আগেই এ মামলা করা হয়েছে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান বলেন, এ ধরনের ঘটনায় আমাদের তেমন করণীয় থাকে না। পরিবারের অভিযোগ পেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাতে পারি।

এ বিভাগের অন্যান্য