মমতার কারণে বাংলাদেশিরা অনুপ্রবেশ করছে: বিজেপি নেতা শুভেন্দু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ
বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করার হুমকি, কখনো উইপোকা উপাধি দেওয়া, আবার কখনো উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখার বক্তব্য, বাংলাদেশিদের ইঙ্গিত করে ভারতের বিজেপি নেতারা এ ধরনের বেফাঁস মন্তব্য করেই চলেছেন।
এবার অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘মমতার কারণে বাংলাদেশিরা অনুপ্রবেশ করছে। তুষ্টিকরণের রাজনীতির ফলে সীমান্তে বেড়া নির্মাণে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) জমি দিচ্ছেন না তিনি। মমতা শুধু নির্বাচন নিয়ে চিন্তিত।’
এর আগে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির শীর্ষ নেতা ও দেশেটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীও মন্তব্য করে বসেন।
গত মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ড বিধান সভার নির্বাচনে জনসভায় অংশ নিতে ধানবাদে যাওয়ার আগে বোকারো বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
বিজেপি নেতা শুভেন্দু বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশির সংখ্যা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ঝাড়খণ্ডও এই সমস্যা নিয়ে বিপদে পড়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সীমান্তে বেড়া নির্মাণে জমি দিচ্ছেন না।’
এর আগে ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছিল। সে বৈঠকে কলকাতার মূখ্যমন্ত্রী মমতাকে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের সীমান্তে ৭২টি জায়গা রয়েছে, যেখানে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য বিএসএফের জমি দরকার। কিন্তু তিনি এটি হতে দেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশনও বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরার বাইরে ভারতবর্ষের ‘হিন্দি বলয়ের রাজ্য’ হিসেবে ঝাড়খণ্ডে সবচেয়ে বেশি বাংলা ভাষা প্রচলিত রয়েছে। সেখানকার দ্বিতীয় সরকার স্বীকৃত ভাষা হলো বাংলা। রাজ্যটিতে প্রায় ৯০ লাখ বাংলাভাষী মানুষের বসবাস। সাম্প্রতিক সময়ে সে সংখ্যা আরও বেড়ে চলেছে।
সেই অঞ্চলে বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিজেপির দাবি, অনুপ্রবেশের জেরেই বাড়ছে বাংলাভাষী মানুষ।
এদিকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপি নেতারা ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছেন বলে সম্প্রতি এ অভিযোগ উঠেছে।
