জবি ছাত্রীর অভিযোগ নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি, তদন্ত চলছে: ডিবির হারুন
সিলেটের সময় ডেস্ক :
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কাজী ফারজানা মীমের যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
হারুন অর রশীদ বলেন, ‘জবির ওই ছাত্রী গতকাল একটি অভিযোগ করেন। এর ভিত্তিতে আমাদের সাইবারের একটি টিম কাজ করছে। অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, আমরা জবি ভিসির সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই ছাত্রীর যে সমস্যা সেটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমাধান করতে পারবে না। আমরা ভুক্তভোগী ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করছি। তাকে বারবার কেনো ফেল করানো হয়েছে বা কেনো ৬ বছরেও পাস করতে পারেননি তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত করে বের করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে একমত বলেও জানান তিনি।
এর আগে গতকাল নিজের নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) শরণাপন্ন হয়েছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম ও টেলিভিশন বিভাগের ১১তম ব্যাচের ছাত্রী কাজী ফারজানা মিম। গতকাল দুপুরে ঢাকার মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মিম। এ সময় তাকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেন হারুন।
ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাজী ফারজানা মিম বলেন, ‘আমি নিজ বিভাগে এক শিক্ষকের দ্বারা সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের শিকার হয়েছিলাম এবং ক্লাস রুমে বুলিংয়ের শিকার হয়েছিলাম। আমি বিষয়টি নিয়ে তখন উপাচার্য বরাবর অভিযোগ করেছি। কিন্তু এখনো বিচার পাইনি। সেজন্য আমি বিভিন্ন জায়গায় সাহায্য প্রার্থনা করছি।’
তিনি বলেন, ‘হারুন স্যার আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। ওনারা আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন বলে জানিয়েছেন। আমি তাদের ওপর ভরসা রাখছি। আমি আবারও আপনাদের মাধ্যমে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, যেন আমার এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হয়।’
ফারজানা মিম বলেন, ‘জবি ফিল্ম ও টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষক এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজক আবু শাহেদ ইমন ও একই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জুনায়েদ হালিমের দ্বারা আমি নির্যাতিত এবং নিপীড়িত। আমার একাডেমিক জীবন নিয়ে শঙ্কায় পড়ে গিয়েছি। আপনারা জানেন আমাকে বিভিন্ন কোর্সে শূন্য দিয়ে ফেল করানো হয়েছে। একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট হিসেবে আমার মেধা কতটুকু সেই প্রশ্ন আমি জাতির কাছে রাখলাম। সেটা আপনার বিবেচনা করবেন।’
