অভিযানেও কমছে না ভোগ্য পণ্যের দাম
রোজার আগে থেকে চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে ভোগ্য পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান চলমান রেখেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন। গত ১৫ দিনের অভিযানে ৭৭টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে ১৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। এর পরও পণ্যের দাম ভোক্তাদের নাগালে রাখা যাচ্ছে না।
জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, রমজান শুরুর ১২ দিন আগে থেকে তারা অভিযান শুরু করে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রমজানের সময়ই খেজুরের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বেশি করে শুল্ক আরোপ করায় এবার দাম অনেক বেড়েছে।’
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি ওমর হাজ্জাজ বলেন, ‘আমরা একাধিকবার বৈঠক করে অনুরোধ করেছি, রোজায় পণ্যের দাম না বাড়াতে। অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আমদানি ও দেশে উৎপাদনের তথ্য যাচাই করে নিয়মিত বাজার তদারকি করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোছাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছুদিন আগে চিনির দাম অতিরিক্ত রাখার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু ওই ব্যবসায়ী গড়ে প্রতিদিন আয় করেন কোটি টাকা। অল্প পরিমাণের জরিমানা করায় অসাধু ব্যবসায়ীদের গায়ে লাগছে না।’
ক্যাবের সহসভাপতি বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার আইনে বলা আছে, জরিমানা করার পরও কেউ যদি পুনরায় দাম অহেতুক বাড়িয়ে মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করে তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কিন্তু আমাদের তদারকি সংস্থাগুলো বাজার ফলোআপ করে না। ফলে জরিমানা করেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’
বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘রোজাকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেই। জরিমানা করেও তাদের থামানো যাচ্ছে না। এখন থেকে আমরা অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা নয়, জেল দেব।’
