তিন সহকারী অ্যাটর্নিকে অব্যাহতি দিল সরকার
তিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে অব্যাহতি দিয়েছে সরকার। তাঁরা হলেন- কাজী বশির আহমেদ, জাকির হোসেন মাসুদ ও শ্যামা আক্তার। রাষ্ট্রপতির আদেশে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়ার কথা আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর বিভাগের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কেন অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোট গণনা কখন হবে, এ নিয়ে প্রার্থীদের মতপার্থক্যের এক পর্যায়ে সম্পাদক প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে চড়াও হয়েছিলেন কাজী বশির আহমেদ, জাকির হোসেন মাসুদ। তারা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এস আর সিদ্দিকী সাইফকে মারধরের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এর মধ্যে কাজী বশির আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সলিসিটর রুনা নাহিদ আকতারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন, অ্যাডাভোকেট কাজী বশির আহমেদ ও অ্যাডভোকেট শ্যামা আক্তারকে সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ের বিগত ২০১৭ সালের ১২ জুন, ১৯ অক্টোবর ও ৭ জুলাই প্রদত্ত নিয়োগ আদেশ বাতিলক্রমে তাহাদেরকে সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল পদ হতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির কারণ উল্লেখ না করলেও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, “সমিতির নির্বাচনে নাহিদ সুলতানা যুথীর পক্ষ নিয়ে মামামারি, সহকর্মীকে আহত করাসহ নানা অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
গত ৭ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দুই দিনের ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ভোট গণনা কখন হবে, তা নিয়ে রাতে মতপার্থক্য তৈরি হয়। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের মনোনীত সম্পাদক প্রার্থী শাহ মঞ্জুরুল হকসহ সাদা প্যানেলের প্রার্থীদের দাবি ছিল ভোট গণনার হোক শুক্রবার ৩টা থেকে।
কিন্তু অন্য সম্পাদক প্রার্থী নাহিত সুলতানা যুথী ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেলের সমর্থিত সম্পাদক প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ নীল প্যানেলের প্রার্থীরা এ দাবির বিপক্ষে অবস্থান নেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে প্রার্থীদের অ্যাজেন্ট-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি পরে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এস আর সিদ্দিকী সাইফসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। এ ঘটনায় পরদিন হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে শাহবাগ থানায় মামলা করেন এস আর সিদ্দিকী সাইফ।
অন্য চারজন হলেন- আইনজীবী ওসমান চৌধুরী, হাসানুজ্জামান, তরিকুল ইসলাম ও এনামুল হক। শনিবার ঢাকার সিএমএম আদালত তাঁদের প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর রবিবার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে চোর দিনের রিমান্ডে দেওয়া হয়। এ মামলায় যুথীকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ অবস্থায় তিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের অব্যাহতির খবর এলো।
