দুবাইয়ে যেভাবে গ্রেফতার হলেন বেনজীর আহমেদ

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একটি মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এআইজি (মিডিয়া) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসাইন।

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়াটি বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দুবাই পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারের বিষয়টি আমি মহান জাতীয় সংসদকে অভিহিত করছি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের জন্য ঢাকার পুলিশ হেডকোয়ার্টারস ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) আবেদন করেছিল। ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল এ আবেদন পাঠানো হয়েছিল। আমরা এটা মনিটর করেছি। ইন্টারপোল ২০২৫ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করে। উক্ত রেড নোটিসের মাধ্যমে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে তাকে গ্রেফতারের জন্য।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আমি এই মহান সংসদের মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে জানাচ্ছি, যে গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টর জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এক ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানায়, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি এই মহান সংসদকে আরও অভিহিত করছি, ইন্টারপোলের এনসিবি থেকে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (প্রত্যর্পণের আবেদন) প্রেরণ করতে হবে। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট আইনে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। উক্ত বিষয়ে পুলিশ ইন্টারপোল চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং গ্রেফতার পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।

বেনজীর আহমেদকে প্রত্যর্পণের জন্য মামলা গ্রেফতারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল (প্রত্যর্পণের প্রস্তাব) প্রস্তুত ও অনুমোদন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের নিকট কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট প্রেরণ করে এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় পূর্বক অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে। এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতা সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি এর মাধ্যমে আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই, অপরাধী যত শক্তিশালী হোক না কেন আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

এ বিভাগের অন্যান্য