দক্ষিণ কোরিয়ায় পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট পেপারের সংকট দেখা দেওয়ায় পুনর্নির্বাচনের দাবিতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ রোববার ভোররাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

গত বুধবার অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচন ছিল প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম জাতীয় ভোট। নির্বাচনে মেয়র, স্থানীয় সরকার ও সংসদ সদস্য পদে অধিকাংশ আসনে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। তবে রাজধানী সিউলের মেয়র পদে জয় পেতে পারেনি দলটি।

নির্বাচনে ব্যালট পেপারের সংকট নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে শুক্রবার পদত্যাগ করেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (এনইসি) চেয়ারম্যান নো তাই-আক। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সিউলের ৩০টিসহ দেশের মোট ৫০টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারের ঘাটতি দেখা দেয়।

ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ সিউলের এসকে অলিম্পিক হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে জড়ো হন, যেখানে নির্বাচনের ব্যালট গণনার কাজ চলছিল। এএফপির একজন সাংবাদিক জানান, রোববার ভোর ২টা পর্যন্ত অন্তত এক হাজার বিক্ষোভকারী সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের অধিকাংশই ছিলেন ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী।

বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে ‘পুনর্নির্বাচন চাই’ স্লোগান দেন। অনেকেই রাতভর অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। স্বেচ্ছাসেবীরা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পানি, কফি ও চকলেট বিতরণ করেন। কেউ কেউ তাদের পোষা প্রাণীও সঙ্গে নিয়ে আসেন।

৩১ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী সিও জিন-হি বলেন, ‘রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, ভোট দিতে না পারা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের লঙ্ঘন।’

নির্বাচন কমিশন ব্যালট সংকটের কারণ হিসেবে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে আগাম ভোটদানের ফলে বিপুল পরিমাণ ব্যালট অব্যবহৃত থেকে যাওয়ায় এবার মোট যোগ্য ভোটারের মাত্র ৫০ শতাংশের জন্য ব্যালট ছাপানো হয়েছিল। এর ফলে কিছু ভোটার ভোট না দিয়েই কেন্দ্র থেকে ফিরে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কমিশনের এ ব্যাখ্যা মেনে নিতে নারাজ অনেক নাগরিক। ২৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী পার্ক সউন-ওক বলেন, ‘কমিশনের এই ব্যাখ্যা একজন সাধারণ নাগরিকের কাছেও মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার পছন্দের প্রার্থী জিতল কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। তাই আমি মনে করি এই নির্বাচন পুনরায় অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।’

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ক্ষমতায় আসেন সাবেক রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর। ইউনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের শেষ দিকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সামরিক শাসন জারির অভিযোগ ছিল।

এ বিভাগের অন্যান্য