বাঁশের আঘাতে বাবার চোখ অন্ধ করার ঘটনায় ছেলের ১২ বছরের কারাদণ্ড
সিলেটের সময় ডেস্ক :
রাজধানীর বাড্ডায় পারিবারিক বিরোধের জেরে গজালযুক্ত বাঁশ দিয়ে বাবার চোখ অন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় ছেলে এমদাদুল হক বাদলকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার অপর আসামি ও বাদলের স্ত্রী মোছা. রত্নাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের নথি অনুযায়ী, মামলায় এমদাদুল হক বাদলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৬ ও ৫০৬ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা দেন। তবে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৩০৭ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে ওই ধারায় খালাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্ত্রী রত্নার বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার ও সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তর বাড্ডার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় এবং তার ছেলে বাদল তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। ঘটনার দিন বাড়ির কেয়ারটেকার ছামিউল হক বাদলকে জানান, তার (বাদল) বাবা টাকা চাইছেন। পরে বাদল নিচে গিয়ে বাবার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও গালিগালাজ শুরু হলে আব্দুল লতিফ প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদল প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি বাঁশের মাথায় কাপড় পেঁচানো লোহার গজাল দিয়ে বাবার বাম চোখে আঘাত করেন।
আঘাতে আব্দুল লতিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর বাদল তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করেন বলে আদালতে সাক্ষীরা জানান। রক্তাক্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত জব্দ তালিকা, মেডিকেল সনদ এবং নয়জন সাক্ষীর জবানবন্দি উপস্থাপন করে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহবুবুল আলম আদালতকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা গেঞ্জি, একটি বাঁশ, বাঁশের মাথায় লাগানো লোহার গজাল এবং সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়। পরে ফুটেজ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়।
আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যতে উঠে আসে, বাদল ও তার বাবার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার সময় চিৎকার শুনে ভবনের বাসিন্দারা বাইরে এসে আব্দুল লতিফকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কয়েকজন সাক্ষী আদালতে বাদলের হাতে বাঁশ দেখেছেন বলেও সাক্ষ্য দেন।
তবে আসামিপক্ষ দাবি করে, ঘটনাটি সাজানো এবং ভুক্তভোগী পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। কিন্তু সাক্ষ্য, চিকিৎসা নথি, সিসিটিভি ফুটেজ ও ফরেনসিক আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগের মূল অংশ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।
