যুদ্ধ থামাতে ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব, মানতে নারাজ ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ
সংঘাত বন্ধে ইরানের পাঠানো ১৪ দফার নতুন প্রস্তাব ঘিরে বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা। তেহরানের এই প্রস্তাবটি শিগগিরই পর্যালোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৩ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
ইরানের আধা-সরকারি দুটি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফা নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে শনিবার (২ মে) এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি তেহরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবেন। তবে তিনি এটির সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ইরান এখনও যথেষ্ট বড় মূল্য দেয়নি।
এর কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ‘তিনি কল্পনাও করতে পারছেন না যে এটি গ্রহণযোগ্য হবে, কারণ গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্বের বিরুদ্ধে যা করা হয়েছে তার জন্য তারা এখনও যথেষ্ট মূল্য দেয়নি।’
এর আগে এই সপ্তাহেই ট্রাম্প ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার মধ্যে ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। পাকিস্তানে এক দফা শান্তি আলোচনা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি তেহরানে কূটনীতিকদের বলেন, ‘এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের তারা কূটনৈতিক পথ নেবে, নাকি সংঘাত চালিয়ে যাবে। ইরান দুই পথের জন্যই প্রস্তুত।’
ওয়াশিংটন বারবার বলেছে, এমন কোনো চুক্তি ছাড়া তারা যুদ্ধ শেষ করবে না যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে। তবে ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সসহ বিভিন্ন মাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান পারমাণবিক ইস্যু সমাধানের আগেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে।
ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন ১৪ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা, ক্ষতিপূরণ প্রদান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা। পাশাপাশি প্রণালীর জন্য নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রস্তাবও রয়েছে।
শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘যদি তারা খারাপ কিছু করে, তাহলে তা সম্ভব। এখন দেখা যাক।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে, যারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের জন্য ইরানকে অর্থ প্রদান করবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাস ও সার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে, যার ফলে ইরান তার অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় তেল আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৫০% বেশি।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র আরও সতর্ক করে বলেছে, ইরানকে শুধু নগদ অর্থ নয়, ডিজিটাল সম্পদ, বিনিময় ব্যবস্থা, অনানুষ্ঠানিক লেনদেন বা অন্য কোনো প্রকার অর্থপ্রদান—এমনকি দাতব্য অনুদান বা দূতাবাসের মাধ্যমে প্রদেয় অর্থও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।
