ভুয়া অ্যাপের নিয়ন্ত্রণে স্মার্টফোন, মুহূর্তেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা
দেশে নতুন ধরনের সাইবার প্রতারণায় সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। লোভনীয় অফারযুক্ত ভুয়া মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করায় ব্যবহারকারীর ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে হ্যাকাররা এবং মুহূর্তের মধ্যেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।
গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ইউনিট জানিয়েছে, গত এক মাসেই এ ধরনের অন্তত ৩০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রতারকরা সাধারণত একটি এসএমএস বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে ফাঁদে ফেলে।
অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে ‘এনবি’ নামের একটি অ্যাপ ডাউনলোড করেছিলেন পিংকি নামের একজন। তিনি জানান, অ্যাপটি ইন্সটলের পরপরই তার ফোন হ্যাং হয়ে যায় এবং পরে সম্পূর্ণ ব্ল্যাক হয়ে যায়।
একই কৌশলের শিকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সৌম্য কান্তি দাশ বলেন, স্কাই ব্যাংকিং অ্যাপে ঢুকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছিলেন তিনি। কিন্তু ঢোকার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ফোন ব্ল্যাক স্ক্রিন হয়ে যায় এবং ‘সিস্টেম আপডেটিং’ লেখা দেখায়, ফলে কোনো বাটন চাপতে পারেননি। কিছুক্ষণের মধ্যে দুটি মেসেজ আসে একটি ‘ওটিপি’ এবং আরেকটি ৩ লাখ টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হওয়ার।
ডিএমপির সাইবার ইউনিটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানান, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যবহারকারীর মতো করেই হ্যাকাররা টাকা ট্রান্সফার করছে। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, টাকা দেশের বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ঘুরে অন্য অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে, যেগুলোর অনেকই প্রতারক চক্রের নিয়ন্ত্রিত। কিছু ক্ষেত্রে দেশের বাইরেও, বিশেষ করে চীন থেকে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞ মুশফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন ভুয়া অ্যাপ ছড়িয়ে আছে। তাই শুধুমাত্র অফিশিয়াল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিত নয়। বিশেষ করে ফ্রি অ্যাপ বা ফ্রি গেম ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকতে হবে, যেসব ডিভাইসে ব্যাংকিং বা আর্থিক অ্যাপ ব্যবহার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, যেকোনো অপরিচিত লিংক বা লোভনীয় অফারে যাচাই ছাড়া ক্লিক করা উচিত নয়। ভুলবশত এমন কিছু করলে সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি।
সূত্র: চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর
