ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী গ্রেফতার ও গণতন্ত্রের অসনি সংকেত
মো: মহসিন খান,
বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং অভিজ্ঞ নারী আইনবিদ ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী–এর প্রতি সাম্প্রতিক আচরণ—গ্রেফতার, অমানবিক ব্যবহার, অপমানজনক আচরণ ও নিপীড়ন—একটি সভ্য রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক শাসনের পরিপন্থী। তাঁর প্রতি এ আচরণ কেবল একজন ব্যক্তির প্রতি অপমান নয়; এটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক মর্যাদা, নারীর অধিকার ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।
স্পিকার হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এমন একজন শীর্ষ সাংবিধানিক পদধারীর সঙ্গে অশোভন আচরণ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সম্মানহানির নজির তৈরি করে। এটি যে কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে এক অশনি–সঙ্কেত।
ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর মতো একজন প্রথিতযশা আইনজীবী ও সংসদ নেতা যদি প্রতিহিংসা, অপমান বা আইনবহির্ভূত আচরণের শিকার হন, তাহলে দেশের সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়? এটি রাষ্ট্রের আইন–শৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা সম্পর্কে গভীর প্রশ্ন তোলে।
বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে তিনি নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক ছিলেন। তাঁর প্রতি অমর্যাদাকর আচরণ সমগ্র দেশের নারী সমাজকে অপমান করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড, সিভিল ও পলিটিক্যাল রাইটস (ICCPR) এবং নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য বিলোপ সনদের (CEDAW) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এটি।
তাঁকে গ্রেফতার প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি পদ্ধতি অনুসরণ না করা, অসন্মানজনক আচরণ এবং নিপীড়নের অভিযোগ রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহারের আলামত। আইনের শাসনকে দুর্বল করার ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে চাই যে, বিশ্ব দরবারে দেশের মান মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর ওপর সব ধরনের নিপীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আইনি প্রক্রিয়া, মানবিক মর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে। গ্রেফতার ও অপমানের দায়ে জড়িতদের তদন্তের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নারী রাজনৈতিক নেত্রীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নজরদারি প্রয়োজন।
ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর গ্রেফতার ও অমানবিক আচরণ কোনো রাজনৈতিক মতবিরোধ নয়—এটি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আঘাত এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। আমি কঠোর ভাষায় এর নিন্দা জানাই এবং বাংলাদেশের আইন, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য দেশ-বিদেশের সকল মানবাধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের তাৎক্ষণিক সজাগ ভূমিকা কামনা করি।
লেখক : মহসিন খান, সাংবাদিক ও সংগঠক।
