ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা বললেন, ‘আমি ট্রান্সজেন্ডার নই’
সিলেটের সময় ডেস্ক :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক নেতাকে ‘জেন্ডার সংক্রান্ত’ তথ্য গোপনের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে রেদোয়ান ইসলাম নামের ওই বহিষ্কৃত নেতা দাবি করেছেন তিনি ‘ট্রান্সজেন্ডার’ নন। তাকে ঘিরে ছড়ানো ট্রান্সজেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য সম্পূর্ণ গুজব বলে দাবি করেছেন তিনি।
গতকাল রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলামকে ব্যক্তিগত তথ্য গোপন ও সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান ও সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী।
তবে রোববার রাতে ‘রিহিয়া রিহি’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে রেদোয়ান ইসলাম নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
তিনি লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ
প্রিয় কসবা বাসী ,
আমি আপনাদেরই রেদোয়ান।
বর্তমানে আমাকে নিয়ে যে বিষয়টি নিয়ে সবাই সমালোচনা করছেন, সেটার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্যই এই পোস্ট।
আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই—
আমি ট্রান্সজেন্ডার নই। আমি একজন সম্পূর্ণ ছেলে এবং একজন সংস্কৃতি কর্মী (Co-Artist)।
আমি দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত। আমার এই পেশা বা কিছু কন্টেন্টের কারণে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব কন্টেন্টের কারণে আপনারা কষ্ট পেয়েছেন, সেগুলো আমি ইতোমধ্যে রিমুভ করেছি।
এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক ও সচেতন থাকবো, ইনশাআল্লাহ।
আপনাদের কাছে অনুরোধ—যাচাই ছাড়া কোনো কিছু বিশ্বাস বা প্রচার করবেন না।
একটি ভুল ধারণা একজন মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ন করতে পারে!।’
রেদোয়ান ইসলামের ছেলে থেকে মেয়েতে রূপান্তরের বিষয়ে তার বাবা জাহাঙ্গীর আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি গুজব। ঢাকায় কিছু কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আছে, যারা টিকটক করে এবং ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়ে। রেদোয়ানও টিকটক করতে কিছু ভিডিও বানিয়ে ফেসবুকে ছেড়েছে। সম্প্রতি এসবের জন্য ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে ক্ষমা চেয়ে বলেছে, এসব আর করবে না। রেদোয়ানের এসব ভিডিও বানানো ও টিকটকের বিষয়ে আমরা পরিবারের কেউ সমর্থন করিনি। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকে রেদোয়ান বাড়িতে নেই। ছেলে থেকে মেয়েতে রূপান্তরের তথ্যটি সঠিক নয়।’
জেলা ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সৈয়দাবাদ সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, যা পরে ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দেওয়া হয়। শনিবার সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী ফেসবুকে কমিটির তালিকা প্রকাশ করলে রেদোয়ান ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী কালবেলাকে বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আগে সবার কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল। মাসখানেক আগে রেদোয়ান ইসলাম জীবনবৃত্তান্তে নিজের ছবিসহ লিঙ্গ পুরুষ বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর জানা যায়, রেদোয়ান অস্ত্রোপচার করে পুরুষ থেকে নারী হয়েছেন, যা আমাদের সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তথ্য গোপন করার অভিযোগে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।’
