আমরা সরকারের সফলতা চাই, তারা উল্টো হাঁটলে করার কিছু নেই : জামায়াত আমির

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

সরকারকে  সবদিক থেকে সহযোগিতা করছেন মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা তো সরকারের সফলতা চাই। কিন্তু সরকারই যদি উল্টা পথে হাটে, আমাদের তো করার কিছু নাই।

তিনি বলেন, আমরা যদি এই সরকারের ব্যর্থতা চাইতাম তাহলে আমরা রাস্তায় এখন নেমে আগুন জ্বালানো শুরু করতাম।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সভার আয়োজন করে ঢাকা মহনাগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জামায়াতের দুইদিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজকে এই সভার আয়োজন করা হয়। 

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করবেন তিনি।

আলোচনা সভায় আগামী ২৯ শে মার্চ শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে সংস্কার নিয়ে আলোচনা জন্য সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানান বিরোধী দলীয় নেতা। না হলে রাজপথে আন্দোলন করা হবে বলে উল্লেখ করে জামায়াত আমির।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে সঠিক পথে হাঁটতে হবে। মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করুন।

আগামী ২৯ তারিখ আবার অধিবেশন বসছে। আমাদের নোটিস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সংস্কার বিষয়ে আলোচনার জন্য। আমরা সুযোগ দিয়ে বলতে চাই নোটিসের অপেক্ষা না করে অধিবেশন বসার সাথে সাথে ঘোষণা দিন যে আমরা আপাদমস্তক যেভাবে সাইন করেছি ওভাবে বাস্তবায়ন করব। আসুন এখন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা আলোচনা করি সংসদে। 

তিনি আরো বলেন, যদি সংসদে তার সমাধান না হয়, এই রাজপথ আমাদের পরিচিত।

আমরা প্রথমেই রাজপথ চাই না। আমরা চাই সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হোক, সংসদীয় গণতন্ত্রে মহান জাতীয় সংসদ।
 

এ সময় সরকারি দলের সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার সমালোচনা করেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি সংবিধানের এক অংশ মানবেন আরেক অংশ মানেন না। ভারী মজা। একটা অর্ডারের ভিত্তিতে দুইটা ভোট একই দিনে হয়েছে। আপনি গোসত মানেন কিন্তু ঝোল খাইতে রাজি না। একই তরকারি একই বাসনে পাকানো হয়েছে। গোসতটা খেয়ে নিলেন বলতেছেন ঝোলটা হারাম।

তিনি বলেন, জনগণকে এত বোকা মনে করার কারণ নাই। জনগণ সব বুঝে। হ্যাঁ, আপনারা মানবেন  তবে সহজে মানবেন না, আমরা বুঝতেছি। এরকম অতীতেও কিছু কিছু বিষয় সহজে মানেন নাই কিন্তু পরে ঠিকই মেনেছেন। আমরা নিজের জন্য কোন দলের জন্য এই কাঠামোগত পরিবর্তন আমরা চাচ্ছি না,সংস্কার চাচ্ছি না।  আমরা ১৮ কোটি মানুষের জন্য চাই।

সরকারকে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান না নেওয়ার আহবান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ঠিক এ মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবেন না। মেহেরবানী করে জন আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান করুন।

দেশে চলমান ‘জ্বালানি সংকটের’ বিষয়ে তিনি বলেন, আজকে বলব সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে আসো। এটা সরকারের একার সমস্যা নয়। এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। এটা গ্লোবাল প্রবলেম। এই ধরনের জাতীয় সমস্যায় খোলা মনে সবাইকে নিয়ে বসেন।

নেতৃত্বের ব্যর্থতায় স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও দেশ এগোয়নি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, যারা আমাদের জন্য একটি স্বাধীন মানচিত্র ও সম্মানজনক পতাকা উপহার দিয়েছেন, দেশের মানচিত্র আর পতাকার হাত ধরে বাংলাদেশ বদলে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছরে তা হয়নি দুর্নীতি আর অযোগ্যতার কারণেই তার সম্ভব হয়নি। দুই দুইবার স্বাধীনতা অর্জন করেও নেতৃত্বের ব্যর্থতা, লোভ ও দুর্নীতির কারণে এ ভূখণ্ডের মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারেনি।

তিনি বলেন, দুর্নীতি আর অযোগ্য নেতৃত্ব যতক্ষণ না পর্যন্ত সমাজ থেকে দূর হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এদেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারবে না। শাসক বদলেছে কিন্তু শাসকের শোসন করার ধারা বদলাইনি।  এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আমাদের অনেক কষ্ট আছে তবে আমাদের দেশটা গণতান্ত্রিকভাবে সামনের দিকে চলুক  আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে ।

এ বিভাগের অন্যান্য