২৬ মার্চ ১৯৭১
বশির আহমদ জুয়েল,
শেখ মুজিবের পক্ষে জিয়া ঘোষণাটি করেন পাঠ
বীর বাঙালি শোনার পরে দখল করে যুদ্ধ মাঠ।
একাত্তরের মার্চ ছিলো বাঙালি জাতির স্বপ্নের মাস। স্বাধীনতা অর্জনের স্বপ্নের বাস্তবায়নে প্রয়োজন ছিলো একটি ঘোষণার। অবশেষে সে ঘোষণাও আসে ২৬ মার্চ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আগের রাতেই ঘোষণাটি সম্পন্ন করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তান সরকার বিরোধী সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। একাত্তরের ১ মার্চ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ঘোষণার পর সর্বস্তরের স্বাধীনতাকামী বাঙালি চরম ক্ষোভে ফেটে পড়ে। মার্চের পয়লা সপ্তাহ থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়। কার্যত অচল হয়ে পড়ে দেশ। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়াার্দী উদ্যান) লাখো জনতার বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন: ‘এবারের সংগ্রাম- আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম- আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’।
অর্থাৎ প্রকাশ্যে জনসমুদ্রের ঘোষণাতে সেদিনই মূলত বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর আর কারো স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দাবির অবকাশ হয় না। বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণার পর স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ এদেশের মানুষ চূড়ান্ত সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ১৯৭১ সাল ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা নিরীহ জনগণের উপর বর্বরোচিত হামলা করে গণহত্যা চালায়। ২৫ মার্চ সকালে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তান ডিএফআই চিফ মারফত খবর পান ঢাকায় ক্র্যাকডাউন হতে যাচ্ছে। সাথে সাথে তিনি দলীয় হাই কমান্ডের নেতা ও অন্যান্য নেতাদের আত্মগোপনে যাবার নির্দেশ দেন। নিজে রয়ে যান ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে। ২৫ মার্চ রাতের শুরুতেই শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে এবং পরে তাঁকে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতার হওয়ার আগে ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু তৎকালীন ইপিআর’র ওয়ারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেন। আর এ বার্তা চট্টগ্রাম ইপিআর সদর দফতরে পৌঁছে।
চট্টগ্রাম উপকূলে নোঙর করা একটি বিদেশি জাহাজেও এ বার্তা গ্রহণ করে। তখন চট্টগ্রামে অবস্থানরত আওয়াামী লীগের তৎকালীন শ্রমবিষয়ক সম্পাদক জহুর আহমেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা রাতেই সাইক্লোস্টাইল করে শহরবাসীর মধ্যে বিলির ব্যবস্থা করেন। ২৬ মার্চ সারাদেশে বেজে উঠে স্বাধীনতার দামামা। পরের দিন চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বেতারে বঙ্গবন্ধুর নামে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পড়ে শুনানো হয়। সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি ছিল- ‘আমি মেজর জিয়া মহান জাতীয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।’ এর পরেই শুরু হয় সর্বাত্মক মুক্তিযুদ্ধ। সে মুক্তিযুদ্ধে টানা ৯ মাসের যুদ্ধে ৩০ লক্ষ বীরের সাগরসম রক্ত আর আড়াই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আসে বাঙালির কাঙ্খিত বিজয়। লাল-সবুজের বিজয় নিশান উড়িয়ে বিশ্বব্যপী বাঙালি জানিয়ে দেয় আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।
বশির আহমদ জুয়েল, সম্পাদক- ছন্দালাপ (ছড়াসাহিত্যের ছোটকাগজ)
