সিলেটে ঈদ বাজারে ‘পপি সিন্ডিকেট’ সক্রিয়, মুনিরা আটক
সিলেটের সময় ডেস্ক :
সিলেট নগরীতে ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটার ভিড় যত বাড়ছে, ততই সক্রিয় হয়ে উঠছে সংঘবদ্ধ চোর চক্র। বিশেষ করে নারীদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হলেও চক্রটি কৌশলে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের অপরাধ জগতে বহুল আলোচিত নারী ‘পপি’ দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী চোর চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। একাধিকবার কারাভোগ করেও তিনি অপরাধ জগত থেকে সরে আসেননি। তার নেতৃত্বে অন্তত শতাধিক নারী সদস্যের একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা মূলত নগরীর অভিজাত বিপণিবিতানগুলোকে টার্গেট করে থাকে।
এই চক্রের সদস্যরা সাধারণত বোরকা পরে সাধারণ ক্রেতা সেজে মার্কেটে প্রবেশ করে। তাদের চলাফেরা ও আচরণ দেখে বোঝার উপায় থাকে না যে তারা চুরির উদ্দেশ্যে এসেছে। সুযোগ বুঝে তারা ভিড়ের মধ্যে নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগ কেটে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয়। এমনকি দোকানের ছোট আকারের পণ্যও কৌশলে বোরকার নিচে লুকিয়ে নিয়ে দ্রুত সরে পড়ে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, চোর সর্দার পপির গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার বামুরা গ্রামে হলেও বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরের এইচ ব্লকের ৪ নম্বর সড়কে একটি চারতলা বাড়িতে বসবাস করছেন। বিস্ময়কর বিষয় হলো, তার এই বাসাটি মহানগর পুলিশের অস্থায়ী কার্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থান করলেও দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, দিন-রাত সেখানে সন্দেহভাজন লোকজনের আনাগোনা থাকলেও তার শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সহজে ধরা পড়েন না তিনি।
পপির বিরুদ্ধে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন থানায় অন্তত ২০ থেকে ২৫টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার চক্রের কোনো সদস্য গ্রেপ্তার হলে তিনি নিজেই আইনজীবীর মাধ্যমে দ্রুত জামিনের ব্যবস্থা করে তাদের আবারও সক্রিয় করে তোলেন।
এই সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে মালা, মুনিরা, মেঘলা, নেহার, বেগমসহ আরও বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে এই চক্রের সদস্য মুনিরা বেগমকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভাতালিয়া এলাকার বাসিন্দা শিরীন আলম হাসান মার্কেটে কেনাকাটার সময় তার ব্যাগ কেটে একটি মোবাইল ফোন চুরি করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মুনিরাকে চোরাই মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়। তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে সিলেটের আখালিয়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মনজুরুল আলম বলেন, “রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ একাধিক টিম নিয়ে কাজ করছে। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে, নগরবাসীকে কেনাকাটার সময় আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে এমন সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
