হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হয়নি, নতুন সিদ্ধান্ত জানাল ইরান

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানাল ইরান। দেশটি জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর এলিট শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং তাদের মিত্র-সমর্থকদের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এর বাইরে থাকা দেশগুলো—অর্থাৎ যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মিত্র নয়, সেসব দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে কোনো বাধা নেই। 

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিওমার্স হায়দারি গতকাল ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাদ্যম তাসনিম নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শুক্রবার (৬ মার্চ) দেশটির অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে।

আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও এলপিজিবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল অতি সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেত না।

গত ২৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজের ক্রুদের সতর্কবার্তা দেওয়া শুরু করে আইআরজিসি। কয়েকটি জাহাজে হামলাও চালানো হয়। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১০টি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য