‘আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় না সরকার’
সিলেটের সময় ডেস্ক :
অন্তত আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় না সরকার। বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রায় নিয়মিত বিরতিতে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে মানুষ অতিষ্ঠ ছিলো, সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের দুই মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শনিবার বিদ্যুৎখাতের বিতরণ ও সঞ্চালন লাইনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।এসময় বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিমসহ বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রে জানা যায়, বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির আর্থিক, কারিগরি এবং সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে একটা ধারণা পেতে। সেখানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড তাদের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে গত অর্থ বছরেও প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। চলমান অর্থ বছরে অনেক দেনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া অন্তবর্তী সরকারের সময় বিদ্যুৎখাতে বরাদ্দ কম রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় বিপিডিবি এবং বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে ভর্তুকি বা লোকসান কমিয়ে আনতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে তুলে ধরা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, তবে উপস্থিত দুই মন্ত্রী বিদ্যুৎখাতের সরকারি কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক বিষয়ে আলোচনা শেষে কর্মকর্তাদের পরার্মশ দেন কি করে অপারেশনাল কষ্ট বা পরিচালনার খরচ, অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় ট্যারিফ নেগোসিয়েশনের লক্ষে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির সূত্র ধরে আর বিদ্যুৎ উৎপাদনখাতে ট্যারিফ কমিয়ে এনে সংকট সমাধান করা যায় কিনা সেই পরার্মশ দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, উপস্থিত দুইজন মন্ত্রীর মনোভাব মূলত দাম না বাড়িয়ে সংকট সমাধানের। বিশেষ করে সিস্টেম লস, অপারেশনাল খরচ, ট্যারিফ নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ভর্তুকি কমানোর কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাদের সময়কে বলেন, আমরা দেশের স্বার্থ, সাধারণ মানুষের স্বার্থ সবার আগে বিবেচনা করবো।বিদ্যুৎখাতে সরকারি বিভিন্ন কোম্পানির আর্থিক, কারিগরি ও সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসাবে আমরা চাই কিভাবে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে, মানুষকে কষ্ট না দিয়ে সমস্যা সমধান করা যায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে নির্দিষ্ট কতদিন এটা করা যাবে সেটা সুনির্দিষ্ট করে না বললেও আমরা চাইবো বিদ্যুতের দাম যাতে না বাড়াতে হয়। অন্যান্য খরচ কমিয়ে কি করে ভর্তুকি কমিয়ে আনা যায় সেই চেষ্টা করতে সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম আমাদের সময়কে বলেন, বিদ্যুৎখাতের বিতরণ কোম্পানিগুলো বিভিন্ন গ্রাহকের কাছে টাকা পায়। বিপিডিবি,র কাছে বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানি টাকা পাওনা আছে। ফলে সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে আজকের বৈঠকে।
তিনি বলেন, মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছ আমরা সেইভাবে কাজ করবো। দুই বছর দাম না বাড়িয়ে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের মানুষের কাছে দায়বদ্ধতা আছে। ফলে মন্ত্রীরা বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কি করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায় সেই বিষয়গুলো দে
খতে বলেছেন।এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, বিদ্যুৎখাতে বিশাল পরিমাণ ঋণ জমা হয়েছে বিপিডিবির। সরকারি বেসরকারি কোম্পানি এবং জ্বালানি আমদানিতে অনেক দেনা জমা হয়েছে। ফলে অর্থ পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ও বিক্রির মধ্যে ফারক রয়েছে। ফলে প্রতি বছর ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে।
এ কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হলে এবং ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে দাম বাড়তে হবে অথবা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ভর্তুকিখাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এখন সরকার কিভাবে ম্যানেজ করবে সেটা নীতিনির্ধারকদের বিষয়। এ কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুৎখাতে ধীরে ধীরে ভর্তুকি কমাতে হলে প্রতি বছরই দাম সমন্বয় করতে হবে। সেটা না করলে অবশ্যই ভর্তুকিতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
