শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মানুষের ঢল
সিলেটের সময় ডেস্ক :
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর অশ্রুসিক্ত স্মরণে একুশের প্রথম প্রহরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নেমেছিল মানুষের ঢল। মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই নগরের সর্বস্তরের মানুষ দলে দলে জড়ো হতে থাকেন শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে। রাত ১২টা ১ মিনিটে শহিদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় একুশের আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং নানা শ্রেণিপেশার মানুষ শহিদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পুষ্পস্তবক অর্পণ কর্মসূচিতে মন্ত্রীর পাশাপাশি একে একে শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তর, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।
পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ভাষা দিবস এদেশের জাতীয় জীবনের অনন্য এক দিন। এই দিবসে সর্বস্তরে মাতৃভাষা চর্চা হোক আগামীর অঙ্গীকার। তিনি ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে সকাল আটটায় প্রভাতফেরির আয়োজন করেছে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ। রিকাবীবাজার কবি নজরুল অডিটোরিয়াম থেকে শুরু হওয়া প্রভাতফেরি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এসে মিলিত হবে।
পাশাপাশি জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সকাল ১১টায় সিলেট শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী।
এসব কর্মসূচিতে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য, শহিদদের আত্মত্যাগ এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় নতুন প্রজন্মের করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হবে। দিবসটি উদযাপনে নগরের চৌহাট্টা এলাকায় শহিদ মিনার সংলগ্ন সড়কে আলপনাও আঁকা হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দিনব্যাপী সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
