ইলন মাস্কের গ্রোকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু আয়ারল্যান্ডে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আয়ারল্যান্ড। দেশটির তথ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, ব্যক্তিগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং যৌনধর্মী কনটেন্ট তৈরির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রোক কীভাবে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে, তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও তদন্তের অংশ। এগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য সুরক্ষা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হবে।
পাশাপাশি গ্রোক নারীদের অশালীন ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে পারছে কি না, সে বিষয়েও উদ্বেগ রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানতে চায়, এসব ক্ষেত্রে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা আছে কি না।
মিডিয়া বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীরা যখন গ্রোককে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি তৈরি করতে বলতেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে সেটি সেই অনুরোধ মেনে নিয়েছে। এমনকি ১৪ বছর বয়সি এক অভিনেত্রীকে ঘিরেও এ ধরনের কনটেন্ট তৈরির উদাহরণ পাওয়া যায়। বিষয়টি সামনে আসার পর বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গুরুতর নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে। একই সঙ্গে শিশু সুরক্ষা আইন ও তথ্য সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন করতেও পারে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কনটেন্ট ফিল্টারিং না থাকলে এআই প্রযুক্তি সহজেই অপব্যবহারের শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
গ্রোক গত বছর ‘স্পাইসি মোড’ নামে একটি ফিচার চালু করে। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নারীদের ছবি বিকৃত বা অশালীনভাবে উপস্থাপনের নির্দেশ দিতে পারতেন। এতে কোনো সম্মতি বা কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই এআই-নির্ভর ভুয়া ছবি বা ডিপফেক তৈরি করা হতো বলে অভিযোগ ওঠে।
গ্রোক আয়ারল্যান্ড থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। ইইউর জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন অনুযায়ী, গুরুতর লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
সূত্র: ইউরো নিউজ
