তাইওয়ানে আরো অস্ত্র পাঠানোর বিষয়ে ‘শিগগিরই’ সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ 
 

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, তাইওয়ানে আরো অস্ত্র পাঠানো হবে কি না সে বিষয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং তাকে এমন পদক্ষেপ না নিতে সতর্ক করেছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলছি। আমাদের ভালো আলোচনা হয়েছে এবং আমরা খুব শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত নেব।

’ তিনি আরো যোগ করেন, চীনা নেতার সঙ্গে তার ‘ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে। চীন স্বশাসিত তাইওয়ান দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে।
৪ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে শি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে ‘পারস্পরিক সম্মান’-এর আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক তাইওয়ান দ্বীপে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেন।চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, শি বলেন, ‘তাইওয়ান প্রশ্ন চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়… যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে সামাল দিতে হবে।

এপ্রিল মাসে ট্রাম্প ও শির বেইজিংয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।চীনের কমিউনিস্ট পার্টি কখনো তাইওয়ান শাসন করেনি, তবে বেইজিং দুই কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও নাকচ করেনি।যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয় না, তবে ওয়াশিংটন তাইপেইয়ের প্রধান নিরাপত্তা সহযোগী—যদিও ট্রাম্পের অধীনে সেই সমর্থনের ভাষা কিছুটা নরম হয়েছে।

ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ১১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় বলে তাইপেই জানিয়েছে।

এর অল্প সময় পর চীন তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর চারপাশে অবরোধ অনুকরণে বৃহৎ আকারের সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া চালায়।তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানায়, তারা ‘যুক্তরাষ্ট্র-চীন পারস্পরিক যোগাযোগ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ বজায় রাখছে।’

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ‘তাইওয়ান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে কেবল ধারাবাহিকভাবে আত্মরক্ষার সক্ষমতা জোরদার করার মাধ্যমেই সে তার কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত শান্তি ও সমৃদ্ধি রক্ষা করতে পারে,’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সহযোগিতা জোরদার’ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প তাইওয়ান ইস্যুতে তুলনামূলক নরম সুর গ্রহণ করলেও, বিষয়টি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবেই রয়ে গেছে।

চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই শনিবার যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ান প্রসঙ্গে ‘ষড়যন্ত্র’ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, এতে চীনের সঙ্গে ‘মুখোমুখি সংঘাত’ সৃষ্টি হতে পারে।

জার্মানিতে মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি চীননীতি গ্রহণ করতে পারে, যার মধ্যে ‘তাইওয়ানকে ব্যবহার করে চীনকে বিভক্ত করার প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র, যা চীনের লাল রেখা অতিক্রম করবে,’ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।গত এক দশকে তাইওয়ান সামরিক শক্তি আধুনিকীকরণে বহু বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, তবে চীনের মোকাবিলায় নিজেদের সুরক্ষায় আরো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ছে।তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে আট বছরে অতিরিক্ত চার হাজার কোটি ডলার প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন, তবে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণাধীন পার্লামেন্ট ডিসেম্বরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১০ বার এ প্রস্তাব আটকে দিয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য