সংসদে নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে জামায়াত জোট

সিলেটের সময় ডেস্ক :

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিতে যাচ্ছেন। কেবল বিরোধিতা নয়, গঠনমূলক সমালোচনা, নীতিতে প্রভাব বৃদ্ধি এবং দেশের উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণের অঙ্গীকার করেছে জোটটি। জামায়াত ও জোটের একাধিক সদস্য বলছেন, তারা অতীতের মতো নিষ্ক্রিয় বা ‘গৃহপালিত’ বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে না। দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ বিরোধিতা এবং জাতীয় স্বার্থে কার্যকর ভূমিকা রাখাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথ দীর্ঘ। ২০০৮ সালে বিএনপি ৩০টি আসন পেলেও ১৮ বছর পর ২০২৬ সালে তারা সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এটি গণতন্ত্রেরই অংশ। তাই জনগণের আস্থা অর্জন, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় রাখা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, তাদের আন্দোলন কখনও একক নির্বাচনের জন্য ছিল না; বরং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করা, নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। শান্তিপূর্ণ ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিতে অটল থাকার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়কারী হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা তথাকথিত বিরোধী দল হব না, শুধু সমালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকব না; দায়িত্বশীল আচরণ করব। সংসদে গিয়ে দেশের উন্নয়ন ও নীতি নির্ধারণে গঠনমূলক ভূমিকা রাখব।’

তিনি আরও বলেন, এটি জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার প্রমাণ।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, অতীতের মতো কেবল সমালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকা নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করবে জোট। সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণে প্রভাব রাখারও অঙ্গীকার করেন তিনি।

ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘আমরা পতিত সরকারের গৃহপালিত বিরোধী দলের মতো হব না। সংসদে গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় আমরা সোচ্চার থাকব।’ তিনি আরও বলেন, সময়ই প্রমাণ করবে তারা কী করতে চান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, ১১-দলীয় জোটের দায়িত্বশীল ভূমিকা সংসদে সমালোচনার ধরন বদলে দিতে পারে। তার মতে, শুধু বিরোধিতার রাজনীতি নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও নীতি প্রভাব বৃদ্ধিতে গঠনমূলক অংশগ্রহণই বিরোধী দলের নতুন রাজনৈতিক বার্তা হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, এই পদক্ষেপ ভোটারদের কাছে জোটের রাজনৈতিক পরিণত মানসিকতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধিতা ও উন্নয়নমুখী অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ফলে বলা যায়, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট সংসদে নতুন এক রাজনৈতিক চর্চার বার্তা দিচ্ছে যেখানে বিরোধিতা হবে নীতিনির্ভর, সমালোচনা হবে গঠনমূলক এবং জাতীয় স্বার্থই হবে অগ্রাধিকার।

এ বিভাগের অন্যান্য